এইচএসসিতে ১-২ বিষয়ে ফেল করা ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীর পুনঃপরীক্ষা এক মাসের মধ্যে
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 37
এইচএসসি পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন এ বছর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। আগামী এক মাসের মধ্যে শুধু ফেল করা বিষয়গুলোতে আবার পরীক্ষা দেওয়ার এই বিশেষ সুযোগের ফলে তাঁদের আর পরের বছরের পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রচলিত নিয়মে এমন শিক্ষার্থীদের একটি পুরো শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হতো; এবারই প্রথম এ ধরনের অন্তর্বর্তী পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন — সব মিলিয়ে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী এই সুযোগের আওতায় আসছেন। এ বছর মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। পুনঃপরীক্ষায় বসতে হবে শুধু অকৃতকার্য বিষয় বা বিষয় দুটিতে; পাস করা বিষয়গুলোতে আবার পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো এই পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে এক-দুটি বিষয়ের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর পুরো একটি বছর নষ্ট না হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে এসব পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্যে, পরীক্ষা বোর্ডগুলোর সাত দিনের মধ্যেই পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে; তবে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আজ যিনি ফেল করেছেন, তাঁকে সাত বা পনেরো দিনের মধ্যে পরীক্ষায় বসতে বললে প্রস্তুতির ঘাটতি থেকে যাবে; আবার বেশি সময় দিলে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি কার্যক্রম পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এই দুই দিক বিবেচনা করেই সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করা হবে, তবে তা এক মাসের বেশি হবে না। উল্লেখ্য, এর আগে মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পুরো প্রক্রিয়া দুই মাসের মধ্যে শেষ করা; নতুন ঘোষণায় সেই সময়সীমা কমিয়ে এক মাসে আনা হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী নিজে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
এবারের ফলাফল এমনিতেই আলোচনার কেন্দ্রে। আজ প্রকাশিত ফলে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন; গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬.৭১ পয়েন্ট। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন, আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবার অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ায় পুনঃপরীক্ষার দাবি ও আলোচনা ফল প্রকাশের দিনই জোরালো হয়। আজকের ফল ও ফল দেখার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত রয়েছে আমাদের এইচএসসি ফলাফলের প্রতিবেদনে।
যারা এই সুযোগ পাচ্ছেন, তাঁদের প্রথম কাজ ফল নিয়ে সন্দেহ থাকলে পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগটি দেখা। ফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন; বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি পুনঃপরীক্ষার রুটিন ও আবেদনের নির্দেশনা বোর্ডগুলো থেকে ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে — তাই নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইট ও কলেজের নোটিশ বোর্ডে নিয়মিত নজর রাখা জরুরি। হাতে সময় বেশি নেই ধরে নিয়েই ফেল করা বিষয়ের প্রস্তুতি এখন থেকে শুরু করে দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষার ইতিহাসে বিষয়ভিত্তিক পুনঃপরীক্ষার এ ধরনের ব্যবস্থা এবারই প্রথম। এত দিন নিয়ম ছিল, এক বিষয়ে ফেল করলেও শিক্ষার্থীকে অপেক্ষা করতে হতো পরের বছরের নিয়মিত পরীক্ষা পর্যন্ত — ফলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পিছিয়ে যেত এক বছর, অনেকে মাঝপথে ঝরে পড়তেন। মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর প্রায় ৭১ শতাংশই এবার এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা; অর্থাৎ সামান্য ব্যবধানে আটকে যাওয়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বেঁচে যাবে এই এক সিদ্ধান্তে। একই সঙ্গে স্নাতক ভর্তির সময়সূচি ধরে রাখা যাবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন — কারণ পুনঃপরীক্ষা ও তার ফল দেরি হলে ভর্তি প্রক্রিয়ার ওপর চাপ তৈরি হবে।
ঘোষণা এলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। পুনঃপরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ ও রুটিন, আবেদনপ্রক্রিয়া ও ফি, এবং প্রবেশপত্র সংগ্রহের নিয়ম — এগুলো পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তিন বা তার বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে: এর আগে তাঁদের জন্য তিন মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা বলা হলেও আজকের ঘোষণায় তাঁদের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। বোর্ডগুলোর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এলেই এ বিষয়ে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।




















