Dhaka ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে কঠোর হস্তে দমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 38

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর অভিযোগ, একটি পক্ষ সীমান্তের ওপারের ইশারায় তৈরি পোশাক খাতে পরিকল্পিত অরাজকতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পোশাকশিল্পের মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা অংশ নেন; উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। খাতের চলমান পরিস্থিতি, সংকটের কারণ ও তা নিরসনে করণীয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের এসব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।” অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে কিছু শিল্পমালিক ও সংগঠনের সংশ্লিষ্টরাও জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি; জড়িত যেই হোন, ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শিল্পাঞ্চলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সঙ্গে প্রকৃত সাধারণ পোশাকশ্রমিকেরা জড়িত ছিলেন না; বরং ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তির দোসররাই ভিন্ন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। রাজপথে আন্দোলনের নামে আইনবহির্ভূত তৎপরতা ও জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পোশাক খাতে সম্ভাব্য অস্থিরতা সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। গত মাসের ১৮ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। উভয় পক্ষের আলোচনা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। রোববার গঠিত ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা সোমবারই হতে পারে, অথবা খুব শিগগিরই বোর্ড বৈঠকে বসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মজুরি নির্ধারণের তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকার কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ করতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিন সকালেও ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সাভারের আশুলিয়াতেও শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

শেয়ার করুন

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে কঠোর হস্তে দমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর অভিযোগ, একটি পক্ষ সীমান্তের ওপারের ইশারায় তৈরি পোশাক খাতে পরিকল্পিত অরাজকতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পোশাকশিল্পের মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা অংশ নেন; উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। খাতের চলমান পরিস্থিতি, সংকটের কারণ ও তা নিরসনে করণীয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের এসব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।” অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে কিছু শিল্পমালিক ও সংগঠনের সংশ্লিষ্টরাও জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি; জড়িত যেই হোন, ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শিল্পাঞ্চলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সঙ্গে প্রকৃত সাধারণ পোশাকশ্রমিকেরা জড়িত ছিলেন না; বরং ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তির দোসররাই ভিন্ন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। রাজপথে আন্দোলনের নামে আইনবহির্ভূত তৎপরতা ও জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পোশাক খাতে সম্ভাব্য অস্থিরতা সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। গত মাসের ১৮ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। উভয় পক্ষের আলোচনা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। রোববার গঠিত ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা সোমবারই হতে পারে, অথবা খুব শিগগিরই বোর্ড বৈঠকে বসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মজুরি নির্ধারণের তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকার কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ করতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিন সকালেও ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সাভারের আশুলিয়াতেও শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।