অক্টোবরে প্রবাসী আয় ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, এক বছরে প্রবৃদ্ধি ১২.১ শতাংশ
- আপডেট সময় : ১১:১৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 9
সদ্য সমাপ্ত অক্টোবরে প্রবাসী আয় এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার (২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন), যা গত বছরের একই মাসের ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তুলনায় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতি ডলার ১২৪ টাকা হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় এই আয়ের পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি।
মাসওয়ারি হিসাবেও অক্টোবরে প্রবাসী আয় বেড়েছে — আগের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, সেই তুলনায় এবার বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী: জুলাইয়ে এসেছিল ২৮৬ কোটি ডলার আর আগস্টে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। তবে টানা পাঁচ মাস ধরে মাসিক আয় তিন বিলিয়ন ডলারের সীমা ছুঁতে পারেনি; অথচ গত অর্থবছরে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাসই এসেছিল তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি।
অর্থবছরের হিসাবে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার (১১ দশমিক ৪৬৫ বিলিয়ন), যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১ হাজার ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। প্রসঙ্গত, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারা বছরেই রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তি দিচ্ছে — ২৯ অক্টোবর শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
ব্যাংকিং চ্যানেলভিত্তিক হিসাবে অক্টোবরের আয়ের সিংহভাগ এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে — ২১২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫০ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ২৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৯ লাখ ডলার। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। অন্যদিকে বিডিবিএল ও পদ্মা ব্যাংকসহ মোট আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে অক্টোবরে কোনো রেমিট্যান্সই দেশে আসেনি।
বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস সৌদি আরব — মোট আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে সেখান থেকে, দেশটিতে কর্মরত আছেন ৩৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের মধ্যে অক্টোবরে রিয়াদে কয়েক দফা হামলার ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল; ওই হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতও হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “অক্টোবরে সৌদি আরবে কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবাই আতঙ্কে ছিলেন, রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু তার মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে।”
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, রেমিট্যান্সই এখন দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী সূচক, আর এই প্রবাহে ছন্দপতন ঘটলে রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, ব্যাংকগুলোর দেওয়া প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার আর বৈধ পথে আস্থা বাড়ায় প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলেই ঝুঁকছেন। রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের এই যুগ্ম প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতিতে স্বস্তি ধরে রেখেছে; তবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জনশক্তি রপ্তানি ও আয়প্রবাহ — দুটোতেই ঝুঁকি বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।




















