Dhaka ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু আজ, এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ পাঁচটি

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 33

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও প্যাডেলচালিত রিকশা। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে। একজন ব্যক্তি তাঁর একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নতুন বিধিমালার বিস্তারিত তুলে ধরে এসব তথ্য জানান। এই কার্যক্রম এসেছে গত ২৯ অক্টোবর গেজেট আকারে প্রকাশিত ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর ধারাবাহিকতায়; বিধিমালাটি গেজেট প্রকাশের পর থেকেই কার্যকর রয়েছে।

নিবন্ধন পেতে হলে মালিককে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি, ফি জমার রসিদ এবং ফিটনেস সনদ। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যাত্রী ধারণক্ষমতা অনুযায়ী। দুই যাত্রীর ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা আর বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা; চার যাত্রীর ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ১০ হাজার ও নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নম্বর প্লেটের জন্য আরও ১ হাজার টাকা দিতে হবে; প্রতিটি নিবন্ধিত রিকশায় থাকবে কিউআর কোডযুক্ত নিজস্ব নম্বর, যাতে মালিক ও জোনের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

একসঙ্গে সব যান নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে না; কার্যক্রম চলবে পর্যায়ক্রমে। বর্তমানে সড়কে চলাচল করা রিকশাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে না, তবে নিবন্ধন পেতে সেগুলোকে বুয়েটের অনুমোদিত নকশা ও প্রযুক্তিগত মান অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সনদ লাগবে। নিবন্ধনের নির্দিষ্ট শেষ তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি; এক মাস পর অগ্রগতি নিয়ে আবার সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকায় চলাচল নিয়ন্ত্রণে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি করে মোট আটটি জোন করা হচ্ছে; জোন অনুযায়ী রিকশার রং ও চলাচলের রুট নির্দিষ্ট থাকবে। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বাধ্যতামূলক এবং সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার; স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকার কাছে গতিসীমা হবে ১৫ কিলোমিটার। প্রতিটি রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে নিবন্ধনের দিন থেকে ১২ বছর।

শুরুতে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না; নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে গেলে আলাদা প্রজ্ঞাপনে ধাপে ধাপে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। আপাতত বিধিমালাটি কেবল সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য প্রযোজ্য; পৌরসভা এলাকায় এটি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন লাগবে, এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য শহরের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু আজ, এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ পাঁচটি

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে। একজন ব্যক্তি তাঁর একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নতুন বিধিমালার বিস্তারিত তুলে ধরে এসব তথ্য জানান। এই কার্যক্রম এসেছে গত ২৯ অক্টোবর গেজেট আকারে প্রকাশিত ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর ধারাবাহিকতায়; বিধিমালাটি গেজেট প্রকাশের পর থেকেই কার্যকর রয়েছে।

নিবন্ধন পেতে হলে মালিককে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি, ফি জমার রসিদ এবং ফিটনেস সনদ। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যাত্রী ধারণক্ষমতা অনুযায়ী। দুই যাত্রীর ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা আর বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা; চার যাত্রীর ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ১০ হাজার ও নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নম্বর প্লেটের জন্য আরও ১ হাজার টাকা দিতে হবে; প্রতিটি নিবন্ধিত রিকশায় থাকবে কিউআর কোডযুক্ত নিজস্ব নম্বর, যাতে মালিক ও জোনের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

একসঙ্গে সব যান নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে না; কার্যক্রম চলবে পর্যায়ক্রমে। বর্তমানে সড়কে চলাচল করা রিকশাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে না, তবে নিবন্ধন পেতে সেগুলোকে বুয়েটের অনুমোদিত নকশা ও প্রযুক্তিগত মান অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সনদ লাগবে। নিবন্ধনের নির্দিষ্ট শেষ তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি; এক মাস পর অগ্রগতি নিয়ে আবার সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকায় চলাচল নিয়ন্ত্রণে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি করে মোট আটটি জোন করা হচ্ছে; জোন অনুযায়ী রিকশার রং ও চলাচলের রুট নির্দিষ্ট থাকবে। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বাধ্যতামূলক এবং সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার; স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকার কাছে গতিসীমা হবে ১৫ কিলোমিটার। প্রতিটি রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে নিবন্ধনের দিন থেকে ১২ বছর।

শুরুতে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না; নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে গেলে আলাদা প্রজ্ঞাপনে ধাপে ধাপে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। আপাতত বিধিমালাটি কেবল সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য প্রযোজ্য; পৌরসভা এলাকায় এটি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন লাগবে, এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য শহরের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।