চতুর্থ দিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, আরও ৪৫৬ কারখানায় ছুটি
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 3
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। এদিনও রাজধানীর মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ আর পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। টানা অস্থিরতার মুখে নতুন করে আরও ৪৫৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। আগের দিনের সংঘর্ষের পর এলাকাটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে মেট্রো স্টেশন খুলে দেওয়া হলেও এদিন নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
গাজীপুরে এদিন সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে অন্তত আটজনকে। আশুলিয়া ও গাজীপুর মিলিয়ে দেড় শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া গেছে।
অস্থিরতার মাত্রা বোঝা যায় আগের দিনের হিসাবেই। সোমবার বিজিএমইএর হিসাবে সংগঠনটির সদস্য ৬৭০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল; বিকেএমইএর আরও প্রায় ২০টি কারখানা মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়ায় প্রায় ৬৯০-তে। শুধু আশুলিয়াতেই সোমবার ২৬৪টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। সোমবার আশুলিয়ায় বিক্ষোভ ঘিরে দুটি মামলা হয় এবং প্রায় ৪০টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়।
এই আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের সময় হামলায় আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যু শিল্পাঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় শ্রমিকনেতারা।
শ্রমিকদের প্রধান দাবি ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্তির প্রথা বন্ধ এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিও জানিয়ে আসছেন তাঁরা। ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণার আশ্বাস থাকলেও সুনির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় মাঠের আন্দোলন থামছে না।
সরকারের পক্ষ থেকে নাশকতা দমনে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ কাজ করছে। তবে টানা চার দিন ধরে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি ও ক্রেতাদের আস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে। তাঁদের মতে, সহিংসতা আর উৎপাদন বন্ধের এই চক্র দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতই।


















