Dhaka ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শূন্য পাসের ২৯৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ড, প্রধানদের তলব

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 5

শিক্ষা মন্ত্রণালয়

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এই ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের তলব করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি; একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর গত পাঁচ বছরের শিক্ষার্থী সংখ্যা, পাসের হার, শিক্ষকসংখ্যা ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এসব তথ্য ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন শূন্য পাস করা ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, বারবার শূন্য পাসের ঘটনা ঘটলে পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল, এমনকি এমপিও বন্ধের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানে একবার শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। একই সময়ে দুবার এমন ফল হলে পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে, আর তিনবার ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের সুপারিশ করা হবে। শুধু প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ব্যাখ্যা শোনাই নয়, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২৩ সালে এমন প্রতিষ্ঠান ছিল ৪২টি, ২০২৪ সালে ৬৫টি, ২০২৫ সালে এক লাফে বেড়ে ২০২টি; এবার তা দাঁড়িয়েছে ২৯৩টিতে। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৮১টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ৫৫টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর বোর্ডে, ৪৯টি; রাজশাহী বোর্ডে এই সংখ্যা ৩৯টি। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সার্বিক গড় পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

এর আগে যশোর বোর্ডের অধীন খুলনার ছয়টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনা আলোচনায় এসেছিল। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে—গত বছরের ৩৪৫টি থেকে এবার নেমে এসেছে ১৩৯টিতে। ফলাফলের এই বিপরীতমুখী দুই চিত্র শিক্ষার মানে বড় ধরনের বৈষম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা। বোর্ডের ঘোষিত ধাপ অনুযায়ী ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন

শূন্য পাসের ২৯৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ড, প্রধানদের তলব

আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এই ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের তলব করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি; একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর গত পাঁচ বছরের শিক্ষার্থী সংখ্যা, পাসের হার, শিক্ষকসংখ্যা ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এসব তথ্য ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন শূন্য পাস করা ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, বারবার শূন্য পাসের ঘটনা ঘটলে পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল, এমনকি এমপিও বন্ধের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানে একবার শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। একই সময়ে দুবার এমন ফল হলে পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে, আর তিনবার ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের সুপারিশ করা হবে। শুধু প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ব্যাখ্যা শোনাই নয়, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২৩ সালে এমন প্রতিষ্ঠান ছিল ৪২টি, ২০২৪ সালে ৬৫টি, ২০২৫ সালে এক লাফে বেড়ে ২০২টি; এবার তা দাঁড়িয়েছে ২৯৩টিতে। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৮১টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ৫৫টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর বোর্ডে, ৪৯টি; রাজশাহী বোর্ডে এই সংখ্যা ৩৯টি। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সার্বিক গড় পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

এর আগে যশোর বোর্ডের অধীন খুলনার ছয়টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনা আলোচনায় এসেছিল। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে—গত বছরের ৩৪৫টি থেকে এবার নেমে এসেছে ১৩৯টিতে। ফলাফলের এই বিপরীতমুখী দুই চিত্র শিক্ষার মানে বড় ধরনের বৈষম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা। বোর্ডের ঘোষিত ধাপ অনুযায়ী ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।