মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে আগুন — দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল মেট্রো স্টেশন
- আপডেট সময় : ০৬:১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 27
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ রোববার (১ নভেম্বর) সংঘর্ষে রূপ নিয়েছিল। মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, আর নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি মেট্রোরেল স্টেশনে কিছু সময় ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সব স্টেশনে যাত্রীসেবা ফিরে আসে।
সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১, ১২ ও প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছিলেন।
শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে; শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন বলে খবর এসেছে। দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর-১১ এলাকায় গাড়িটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় বলে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার হামিদুর রহমান জানিয়েছেন। তবে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি পুলিশের কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশনে ট্রেন থামানো বন্ধ ছিল বলে মেট্রোরেল পুলিশের (এমআরটি পুলিশ) অপারেশন বিভাগের পরিদর্শক মো. মহসীন শেখ নিশ্চিত করেছেন। কোনো কোনো প্রতিবেদনে কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনেও সাময়িকভাবে ট্রেন না থামার কথা এসেছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঝুঁকি বিবেচনায় স্টেশনগুলোতে ট্রেন ‘স্কিপ’ করা হয়েছিল এবং বেলা ১টা ৫৮ মিনিটে মেট্রোরেলের চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।
আহত ও আটকের বিষয়ে পুলিশের দুই স্তরের কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার জানান, কয়েকজন আন্দোলনকারীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে এবং দুই নারী পুলিশসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তবে সবাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় সঠিক সংখ্যা তখনো জানা যায়নি। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম পরে জানান, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি; তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী লাঠিচার্জ করা হয়নি, শুধু সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। আটক বা আহতের চূড়ান্ত সংখ্যা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করেনি।
এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানিয়েছেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে মিশে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা এই তৎপরতার সমন্বয় করছিলেন; জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এই বিক্ষোভ চলেছে এমন একদিনে, যেদিন সরকার পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকার দাবিতে আন্দোলন থামেনি — একই দাবিতে গাজীপুরেও রোববার পুলিশ বক্সে আগুন ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা; শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারে এই মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মজুরি বোর্ড এখনো কোনো অঙ্ক নির্ধারণ করেনি, তাই আন্দোলনের পরবর্তী মোড় নির্ভর করছে বোর্ডের প্রথম বৈঠক ও কারখানা মালিকপক্ষের প্রতিক্রিয়ার ওপর।



















