Dhaka ০৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুর-১১-এ শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন, সড়কে যান চলাচল বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 5

মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের সময় সড়কের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে, যার জেরে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১১-এর প্রধান সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে; জবাবে শ্রমিকেরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে, আর প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মিরপুর-১১ স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই স্টেশনে এখন কোনো ট্রেন থামছে না, যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ। ফলে মিরপুর-১১ এলাকায় চলাচলকারী যাত্রীদের আপাতত বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

সকাল থেকেই মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, মিরপুর-১০ এলাকা স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে; কেউ বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আজকের এই সংঘর্ষে হতাহতের কোনো সংখ্যা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

আজকের চিত্র অবশ্য সব শিল্পাঞ্চলে এক রকম নয়। সাভার ও আশুলিয়ার কারখানাগুলোতে মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে; হেমায়েতপুর, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, জিরানী ও ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের কারখানাগুলোতে সকাল থেকেই স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরেছে। এর আগে সাভার-আশুলিয়ায় ২৩০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা ও সংঘর্ষ-অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি; বর্তমানে শ্রমিকেরা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা পান। সরকার রোববার ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, আর সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী সংশোধিত মজুরি ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। মালিক সংগঠন বিজিএমইএর সোমবারের হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি প্রধান শিল্পাঞ্চলের ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ৬৭৯টিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল, আর কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক। মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি থেকে ৫৩ হাজার ৮৪০ জন শ্রমিক কাজ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

রোববার মিরপুরেই শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, আর সেই ঘটনার পর মিরপুরের গ্রেপ্তার হওয়া ২৯ জনের মধ্যে ২৬ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। আজকের সংঘর্ষ সেই ধারাবাহিক অস্থিরতার মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করল, যদিও সাভার-আশুলিয়ায় কাজে ফেরার চিত্র বলছে পরিস্থিতি সব জায়গায় এক দিকে যাচ্ছে না। মিরপুর-১১ স্টেশন কখন খুলবে, তা নির্ভর করছে সড়কের পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।

শেয়ার করুন

মিরপুর-১১-এ শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন, সড়কে যান চলাচল বন্ধ

আপডেট সময় : ১১:২৩:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে, যার জেরে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১১-এর প্রধান সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে; জবাবে শ্রমিকেরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে, আর প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মিরপুর-১১ স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই স্টেশনে এখন কোনো ট্রেন থামছে না, যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ। ফলে মিরপুর-১১ এলাকায় চলাচলকারী যাত্রীদের আপাতত বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

সকাল থেকেই মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, মিরপুর-১০ এলাকা স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে; কেউ বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আজকের এই সংঘর্ষে হতাহতের কোনো সংখ্যা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

আজকের চিত্র অবশ্য সব শিল্পাঞ্চলে এক রকম নয়। সাভার ও আশুলিয়ার কারখানাগুলোতে মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে; হেমায়েতপুর, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, জিরানী ও ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের কারখানাগুলোতে সকাল থেকেই স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরেছে। এর আগে সাভার-আশুলিয়ায় ২৩০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা ও সংঘর্ষ-অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি; বর্তমানে শ্রমিকেরা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা পান। সরকার রোববার ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, আর সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী সংশোধিত মজুরি ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। মালিক সংগঠন বিজিএমইএর সোমবারের হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি প্রধান শিল্পাঞ্চলের ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ৬৭৯টিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল, আর কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক। মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি থেকে ৫৩ হাজার ৮৪০ জন শ্রমিক কাজ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

রোববার মিরপুরেই শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, আর সেই ঘটনার পর মিরপুরের গ্রেপ্তার হওয়া ২৯ জনের মধ্যে ২৬ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। আজকের সংঘর্ষ সেই ধারাবাহিক অস্থিরতার মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করল, যদিও সাভার-আশুলিয়ায় কাজে ফেরার চিত্র বলছে পরিস্থিতি সব জায়গায় এক দিকে যাচ্ছে না। মিরপুর-১১ স্টেশন কখন খুলবে, তা নির্ভর করছে সড়কের পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।