জামানত ছাড়া ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ-অনুদান, ৫৬ জেলায় ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আবেদন শুরু
- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 32
তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) থেকে দেশের বাকি ৫৬ জেলার সব উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারছেন; এই ধাপে আবেদন চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন পাবেন। এর অর্ধেক, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে ব্যাংকঋণ হিসেবে, আর বাকি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা মিলবে এককালীন অনুদান হিসেবে। অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হবে ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন ও প্রস্তাবিত ব্যয় মূল্যায়ন করে; আবেদন করলেই যে সর্বোচ্চ অঙ্ক মিলবে, তা নয়।
অর্থায়নের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে। তবে শর্তও রয়েছে — নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে পরিণত হবে।
আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক, যাঁর বয়স আবেদনের শেষ তারিখে ২৮ বছরের বেশি হবে না এবং যিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা। আগে থেকে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা না থাকলেও বাস্তবায়নযোগ্য একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকলেই আবেদন করা যাবে। আবেদন করা যাবে সম্পূর্ণ বিনা ফিতে।
আগ্রহীদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে নিজ নিজ উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দিতে হবে। ফরম পাওয়া যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল ও তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে উদ্যোক্তাকে এই অর্থায়নের জন্য নির্বাচন করা হবে।
‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি—উদ্যোগ’ নামের এই কর্মসূচির বিস্তারিত গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর জারি হয় কর্মসূচির নীতিমালা। প্রথম পর্যায়ে মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা — এই আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে জমা পড়ে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন; সেগুলোর যাচাই-বাছাই এখন চলছে।
কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য ও পশুপালন, হালকা প্রকৌশল, পর্যটন, সেবা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ বৈধ যেকোনো ব্যবসায়িক প্রস্তাব এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী এটি প্রতিযোগিতামূলক কোনো কর্মসূচি নয়; ব্যাংক শাখাগুলোর নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করাই এর উদ্দেশ্য।



















