পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে: রাশেদ খাঁন
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 14
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি আরও বেড়ে যাবে। সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে এনসিপি তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং তাদের দেওয়া গাড়ি ও অর্থ ব্যবহার করছেন; অথচ প্রকাশ্যে তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিচ্ছেন।
তাঁর আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জামায়াত ও এনসিপির কঠোর বক্তব্যের পেছনে রয়েছে আর্থিক সহযোগিতা ও অনুদান আদায়ের চাপ তৈরির উদ্দেশ্য। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, দল দুটি বোঝাতে চাইছে—নিয়মিত অনুদান ও পেছন থেকে সহযোগিতা বন্ধ হয়ে গেলে পরিণতি ভালো হবে না।
পাটওয়ারীর রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়েও কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতির সময় ল্যাপটপ চুরি আর জাতীয় রাজনীতিতে ছাগল চুরিই পাটওয়ারীর অভিজ্ঞতা; সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের কথা বলছেন। রাশেদ খাঁনের মতে, পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি ঠেকানো তো দূরের কথা, এ ধরনের অপরাধ আরও বেড়ে যাবে।
পাটওয়ারীকে ঘিরে রাশেদ খাঁনের এমন কটাক্ষ অবশ্য নতুন নয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতির সময় পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ তুলেছিলেন এবং সে সময় তাঁর বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন।
এর আগে একই দিন ‘পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা এবং তাঁকে অসম্মান করার প্রতিবাদে’ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল আয়োজিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাশেদ খাঁন।
সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি ও বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পেছনে জামায়াতের আমিরের উসকানি রয়েছে। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে ঢুকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালিয়েছেন, আর জামায়াত রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
জামায়াতের লংমার্চ থেকে ‘সরকারের সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেওয়ার’ বক্তব্য এসেছিল উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, এর পরপরই শ্রমিক আন্দোলনের নামে অরাজকতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে; তাই এসব ঘটনার দায় জামায়াত এড়াতে পারে না। উসকানিদাতা হিসেবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।
১৯৭১ সালে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা এখন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে রয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক।
রাশেদ খাঁনের এসব অভিযোগ ও মন্তব্যের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


















