Dhaka ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২০ কিলোমিটার বেগে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 10

ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র প্রভাবে উত্তাল অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল। ছবি: এএনআই

ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। তীব্র ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১টার দিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছে স্থলভাগ অতিক্রম (ল্যান্ডফল) শুরু করে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া ‘মুরাসু’র ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া ভোর পর্যন্ত চলে; ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ঝড়ের ‘চোখ’ স্থলভাগে ঢোকে। আইএমডির রাত দেড়টার বুলেটিন অনুযায়ী সে সময় ঝড়টি ওঙ্গোল থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঝড়টি নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টায় দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি স্বাভাবিক জোয়ারের উচ্চতার চেয়ে ১ থেকে দেড় মিটার, কোথাও কোথাও ২ মিটার পর্যন্ত উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে; বাপাতলা, কৃষ্ণা ও প্রকাশম জেলায় এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেশী তেলঙ্গানার ছয় জেলায় কমলা সতর্কতা এবং পাঁচ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অন্ধ্র সরকার ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য ৩৭ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে বহু মানুষকে আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ঝড়ের প্রভাবে জনজীবনেও বিঘ্ন ঘটেছে। সোমবার বিজয়ওয়াড়া, তিরুপতি ও বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দরে অন্তত ১৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে; কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।

‘মুরাসু’ বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানেনি। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে সোমবার বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী ঝড়টি ভারতের উপকূলেই স্থলভাগে ওঠায় বাংলাদেশে এর সরাসরি প্রভাব পড়েনি।

শেয়ার করুন

১২০ কিলোমিটার বেগে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’

আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। তীব্র ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১টার দিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছে স্থলভাগ অতিক্রম (ল্যান্ডফল) শুরু করে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া ‘মুরাসু’র ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া ভোর পর্যন্ত চলে; ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ঝড়ের ‘চোখ’ স্থলভাগে ঢোকে। আইএমডির রাত দেড়টার বুলেটিন অনুযায়ী সে সময় ঝড়টি ওঙ্গোল থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঝড়টি নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টায় দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি স্বাভাবিক জোয়ারের উচ্চতার চেয়ে ১ থেকে দেড় মিটার, কোথাও কোথাও ২ মিটার পর্যন্ত উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে; বাপাতলা, কৃষ্ণা ও প্রকাশম জেলায় এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেশী তেলঙ্গানার ছয় জেলায় কমলা সতর্কতা এবং পাঁচ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অন্ধ্র সরকার ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য ৩৭ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে বহু মানুষকে আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ঝড়ের প্রভাবে জনজীবনেও বিঘ্ন ঘটেছে। সোমবার বিজয়ওয়াড়া, তিরুপতি ও বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দরে অন্তত ১৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে; কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।

‘মুরাসু’ বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানেনি। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে সোমবার বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী ঝড়টি ভারতের উপকূলেই স্থলভাগে ওঠায় বাংলাদেশে এর সরাসরি প্রভাব পড়েনি।