Dhaka ০১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড় পর্দায় জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, তানভীর মোকাম্মেল শেষ করেছেন ৭০ শতাংশ শুটিং

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১১:১২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 8

‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কালজয়ী কাব্য ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ এবার আসছে বড় পর্দায়। সাহিত্যকর্মটি অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন খ্যাতিমান নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পরিচালক নিজেই জানিয়েছেন, ছবিটির প্রায় ৭০ শতাংশ শুটিং এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে নির্মাণের বড় অংশ পেরিয়ে এখন শেষ ধাপের দৃশ্যধারণের অপেক্ষায় ছবিটি।

প্রায় দুই ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এই সিনেমার চিত্রনাট্যও লিখেছেন পরিচালক নিজে। নামভূমিকা সোজন চরিত্রে অভিনয় করছেন তনয় বিশ্বাস, আর তার বিপরীতে দুলি চরিত্রে দেখা যাবে রাদিফা নারমিনকে। প্রধান দুই চরিত্রের শৈশবের অংশে অভিনয় করছেন শিশুশিল্পী দিহান ও শ্রেয়া বৈদ্য। ছবিটিতে আরও অভিনয় করছেন চিত্রলেখা গুহ, কাজী রাজু, জুবায়ের জাহিদ, আহসানুল হক মিনু, স্বপ্না বৈদ্য, শাহ আলম দুলাল ও রেজাউল করিম রেজাসহ অনেকে।

কারিগরি দলেও রয়েছেন অভিজ্ঞ সব নাম। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে রাকিবুল হাসান, সম্পাদনায় মহাদেব শি এবং শিল্প নির্দেশনায় উত্তম গুহ। আবহসংগীত পরিচালনা করছেন সৈয়দ শাবাব আলী আরজু, পোশাক পরিকল্পনা ও শিল্পী নির্বাচনের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন চিত্রলেখা গুহ। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন সৈয়দ শাবাব আলী আরজু, সাগির মোস্তফা, সন্দীপ মিস্ত্রি ও অপরাজিতা সংগীতা। ছবিটির সহপ্রযোজক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন কবি জসীমউদ্দীনের কন্যা হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। ছবিটি নির্মিত হচ্ছে পরিচালকের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কিনো-আই ফিল্মসের ব্যানারে।

ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছিল চলতি বছরের মার্চে, গোপালগঞ্জের সাতপার গ্রামে। কাব্যের গল্পের পটভূমি মধুমতি নদীর তীরের শিমুলতলী গ্রাম, যেখানে পাশাপাশি বসবাস করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই নদীকেন্দ্রিক গ্রামীণ আবহ পর্দায় ফুটিয়ে তোলাই ছিল লোকেশন বাছাইয়ের মূল ভাবনা।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই কাব্যের মূল উপজীব্য দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী তরুণ-তরুণীর প্রেম। সেই প্রেমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ সমাজের রীতিনীতি, লোকজ জীবন আর সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক বাস্তবতার নানা স্তর। দশকের পর দশক ধরে পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই লোকগাথাধর্মী আখ্যান এবার পর্দায় কতটা জীবন্ত হয়ে ওঠে, সেটাই দেখার বিষয়।

সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে তানভীর মোকাম্মেল দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। তার হাতে এই ক্লাসিক কাব্যের চিত্ররূপ কেমন দাঁড়ায়, তা নিয়ে সাহিত্যপ্রেমী ও সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কবির নিজের কন্যা প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাহিত্যকর্মটির প্রতি নির্মাতাদের যত্নের দিকটি আলাদা তাৎপর্য পাচ্ছে।

বাকি শুটিং শেষ হলে সম্পাদনা ও পোস্ট-প্রোডাকশনের বাকি কাজ এগিয়ে যাবে। ছবিটির মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে নির্মাণের অগ্রগতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে শিগগিরই মুক্তি নিয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে বলে আশা করা যায়।

শেয়ার করুন

বড় পর্দায় জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, তানভীর মোকাম্মেল শেষ করেছেন ৭০ শতাংশ শুটিং

আপডেট সময় : ১১:১২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কালজয়ী কাব্য ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ এবার আসছে বড় পর্দায়। সাহিত্যকর্মটি অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন খ্যাতিমান নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পরিচালক নিজেই জানিয়েছেন, ছবিটির প্রায় ৭০ শতাংশ শুটিং এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে নির্মাণের বড় অংশ পেরিয়ে এখন শেষ ধাপের দৃশ্যধারণের অপেক্ষায় ছবিটি।

প্রায় দুই ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এই সিনেমার চিত্রনাট্যও লিখেছেন পরিচালক নিজে। নামভূমিকা সোজন চরিত্রে অভিনয় করছেন তনয় বিশ্বাস, আর তার বিপরীতে দুলি চরিত্রে দেখা যাবে রাদিফা নারমিনকে। প্রধান দুই চরিত্রের শৈশবের অংশে অভিনয় করছেন শিশুশিল্পী দিহান ও শ্রেয়া বৈদ্য। ছবিটিতে আরও অভিনয় করছেন চিত্রলেখা গুহ, কাজী রাজু, জুবায়ের জাহিদ, আহসানুল হক মিনু, স্বপ্না বৈদ্য, শাহ আলম দুলাল ও রেজাউল করিম রেজাসহ অনেকে।

কারিগরি দলেও রয়েছেন অভিজ্ঞ সব নাম। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে রাকিবুল হাসান, সম্পাদনায় মহাদেব শি এবং শিল্প নির্দেশনায় উত্তম গুহ। আবহসংগীত পরিচালনা করছেন সৈয়দ শাবাব আলী আরজু, পোশাক পরিকল্পনা ও শিল্পী নির্বাচনের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন চিত্রলেখা গুহ। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন সৈয়দ শাবাব আলী আরজু, সাগির মোস্তফা, সন্দীপ মিস্ত্রি ও অপরাজিতা সংগীতা। ছবিটির সহপ্রযোজক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন কবি জসীমউদ্দীনের কন্যা হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। ছবিটি নির্মিত হচ্ছে পরিচালকের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কিনো-আই ফিল্মসের ব্যানারে।

ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছিল চলতি বছরের মার্চে, গোপালগঞ্জের সাতপার গ্রামে। কাব্যের গল্পের পটভূমি মধুমতি নদীর তীরের শিমুলতলী গ্রাম, যেখানে পাশাপাশি বসবাস করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই নদীকেন্দ্রিক গ্রামীণ আবহ পর্দায় ফুটিয়ে তোলাই ছিল লোকেশন বাছাইয়ের মূল ভাবনা।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই কাব্যের মূল উপজীব্য দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী তরুণ-তরুণীর প্রেম। সেই প্রেমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ সমাজের রীতিনীতি, লোকজ জীবন আর সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক বাস্তবতার নানা স্তর। দশকের পর দশক ধরে পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই লোকগাথাধর্মী আখ্যান এবার পর্দায় কতটা জীবন্ত হয়ে ওঠে, সেটাই দেখার বিষয়।

সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে তানভীর মোকাম্মেল দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। তার হাতে এই ক্লাসিক কাব্যের চিত্ররূপ কেমন দাঁড়ায়, তা নিয়ে সাহিত্যপ্রেমী ও সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কবির নিজের কন্যা প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাহিত্যকর্মটির প্রতি নির্মাতাদের যত্নের দিকটি আলাদা তাৎপর্য পাচ্ছে।

বাকি শুটিং শেষ হলে সম্পাদনা ও পোস্ট-প্রোডাকশনের বাকি কাজ এগিয়ে যাবে। ছবিটির মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে নির্মাণের অগ্রগতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে শিগগিরই মুক্তি নিয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে বলে আশা করা যায়।