জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রিজভী
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 27
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, “বিপ্লবের কথা বলেন? আপনাদের রাজনীতির ইতিহাস তো আত্মসমর্পণের ইতিহাস, স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।”
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীতে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, মানুষ অতীতের কথা ভুলে যায়নি। তাঁর অভিযোগ, জামায়াত অন্যের কাছে নিজের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয় এবং পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রেখে কাজ করার চেষ্টা করছে।
সাত দফা দাবি মেনে না নিলে এক দফার আন্দোলনে ফিরে যাওয়ার হুঁশিয়ারির জবাবেও সরব ছিলেন এই বিএনপি নেতা। তাঁর প্রশ্ন, “কাকে ভয় দেখান? ১৭ বছর আন্দোলন, নিপীড়ন সহ্য করে বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। আপনারা আন্দোলন করলে কি আমরা ঘরে বসে থাকব?” জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি তা মানবে না—এমন কথা বলেনি; তবে সনদে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আলোচনার টেবিলে বসে সমাধান হবে, লংমার্চ করে নয়।”
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (৩১ অক্টোবর) ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বলেছিলেন, আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে এবং দাবি আদায়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। কুষ্টিয়ার সমাপনী সমাবেশেও তিনি সাত দফা দাবি মেনে না নিলে এক দফার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। জোটের সাত দফার মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনসহ জনসংশ্লিষ্ট দাবি।
পাল্টা বক্তব্যে জামায়াত শিবিরও চুপ নেই। রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বিএনপিকে ‘জাতির জন্য আপদ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই সরকারকে টিকিয়ে রাখার দরকার নেই। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সংবিধানের অজুহাতে জনগণকে প্রতারিত করছে।
লংমার্চ কর্মসূচি কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বাকযুদ্ধ এখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিচ্ছে। একদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি বলছে, কর্মসূচি নয়—জনসংকটের সমাধানেই তাদের মনোযোগ; অন্যদিকে বিরোধী জোটের হুঁশিয়ারি, দাবি না মানলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। সামনের দিনগুলোতে সংসদের ভেতরে-বাইরে এই টানাপোড়েন আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।



















