রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর দেবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত
- আপডেট সময় : ০৯:২০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 2
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা ঐতিহাসিক মামলার রায় আগামী ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। মঙ্গলবার আদালত জানিয়েছে, সেদিন নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত পিস প্যালেসে গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়) বিচারকেরা রায় পড়া শুরু করবেন।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা সনদ (জেনোসাইড কনভেনশন) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মামলাটি করে। গাম্বিয়ার অভিযোগ, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো অভিযান গণহত্যার শামিল ছিল; ওই অভিযানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রাণভয়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের অনুসন্ধান কমিশনও ওই অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ সংঘটিত হয়েছিল বলে মত দিয়েছিল। তবে মিয়ানমার শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এক দশকের বেশি সময় পর গণহত্যার অভিযোগে করা কোনো মামলায় রায় দিতে যাচ্ছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালত; আদালতটির ইতিহাসে এটি হবে এ ধরনের মাত্র তৃতীয় রায়। আইসিজের রায় চূড়ান্ত এবং এর বিরুদ্ধে আপিলের কোনো সুযোগ নেই। এর আগে ২০২০ সালে অন্তর্বর্তী আদেশে আদালত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক বিচারবিষয়ক কাউন্সিলর মারিয়া এলেনা ভিগনোলি বলেছেন, আইসিজের এই রায় রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের প্রভাব পড়তে পারে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলাসহ আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান অন্য গণহত্যা মামলাগুলোর ওপরও; কারণ গণহত্যার অভিযোগ আন্তর্জাতিক আদালতে প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন বলে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব সরাসরি। ২০১৭ সালের ঢলের পর থেকে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়ে আছেন, অথচ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আজও শুরু করা যায়নি। রায়ে রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের দায় নির্ধারিত হলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং ন্যায়বিচারের দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জোর পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার দৃষ্টি ১৯ নভেম্বরের হেগের দিকে।




















