সাভারে ওসির গাড়িতে আগুন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অন্তত ৫০ জন আহত
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 2
ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চলা পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে বুধবার আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাভার–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের মধ্যে হেমায়েতপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়; গুরুতর আহত হন ওসি নিজেও। পুলিশ, শ্রমিক, সাংবাদিক ও পথচারীসহ দিন শেষে অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সকাল সোয়া আটটার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানার সামনে এবং নয়টার দিকে উলাইলে আল-মুসলিম গ্রুপের সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সোয়া নয়টার পর থেকে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানিয়েছেন, পদ্মার মোড়ে দুই দিক থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান।
বেলা দশটার দিকে হেমায়েতপুর–সিঙ্গাইর সড়কে ওসির গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত ওসি সাইফুল আলমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার শিকার হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরাও — দুই দফায় পাঁচজন সাংবাদিক ও ক্যামেরাপারসন আহত হয়েছেন; তাঁদের মধ্যে স্টার নিউজ, একাত্তর টেলিভিশন ও নিউজ২৪-এর কর্মীরা রয়েছেন।
সংঘর্ষের মুখে সকালে পদ্মার মোড়–হেমায়েতপুর এলাকার আটটি কারখানায় সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়, দুটি কারখানায় চলে কর্মবিরতি। আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে নিউ এজ কারখানা ছুটি দিলে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানাও বন্ধ হয়ে যায়; দুপুর পর্যন্ত সাভার–আশুলিয়ায় শতাধিক কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আশুলিয়ায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও টিয়ারশেল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে, উসকানির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গাজীপুরেও সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন; পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১২ প্লাটুন বিজিবিসহ মোট ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী ভোর ছয়টা থেকে মাঠে রয়েছে। ফতুল্লার কাঠেরপুলে বেলা এগারোটার দিকে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের চেষ্টা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়; সেখান থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে মিরপুরে আজ কোনো সড়ক অবরোধ হয়নি, যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান দাবি ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা; সঙ্গে রয়েছে কালোতালিকাভুক্তি বন্ধ ও অন্যায় ছাঁটাই বাতিলের দাবি। সোমবার সাভার-আশুলিয়ায় ২৩০ কারখানায় ছুটি দেওয়ার পর মঙ্গলবার আরও ৪৫৬ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়। এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশ তিনজন শ্রমিকনেতাকে আটক করেছে — তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম। বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম শামসুদ্দিনের বরাতে টিবিএস জানিয়েছে, আজ প্রায় ৩৭০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল।
বিকেলের দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে সকাল সাড়ে দশটা থেকেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সব এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক, কোথাও যান চলাচলে বাধা নেই; তবে পুলিশ ও বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকের পর জানা গেছে, নতুন মজুরি ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হয়ে আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার লক্ষ্য ঠিক হয়েছে।



















