মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: সিনেটে আসন ছিনিয়ে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এখনো ঝুলন্ত
- আপডেট সময় : ০৯:১৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 3
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা চলছে, আর প্রাথমিক ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের দিকেই ঝুঁকছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের লড়াই। সিনেটে রিপাবলিকানদের একটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা, আরও কয়েকটি রিপাবলিকান আসনে তারা এগিয়ে আছে। তবে দুই কক্ষের কোনটির নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, তা নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে।
এবার কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫ আসন ও সিনেটের ৩৫ আসনে ভোট হয়েছে; পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে হয়েছে গভর্নর নির্বাচন। ভোটের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ৫৩-৪৭; নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের দরকার নিট চারটি আসন। নর্থ ক্যারোলিনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে প্রথম আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন। জর্জিয়ায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট জন অসফ, নিউ হ্যাম্পশায়ারে আসন ধরে রেখেছেন ক্রিস পাপাস। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটরের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুজের এগিয়ে থাকা এবারের নির্বাচনের বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে; কানসাসেও রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের চেয়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টন।
প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা একের পর এক রিপাবলিকান আসন ছিনিয়ে নিচ্ছে। নিউ জার্সির ৭ নম্বর আসনে রিপাবলিকান টম কিনকে হারিয়েছেন সাবেক নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলট রেবেকা বেনেট। কেনটাকির একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জিতেছেন ডেমোক্র্যাট জ্যাক ডেম্বো, ফ্লোরিডায় নতুন করে আঁকা ২২ নম্বর আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট পিয়া দান্দিয়া। আংশিক গণনায় প্রতিনিধি পরিষদের মোট প্রাপ্ত ভোটেও রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে আছে ডেমোক্র্যাটরা। দলটির হাউস নেতা হাকিম জেফরিস বলেছেন, ‘আমরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।’
গভর্নর নির্বাচনেও এসেছে ঐতিহাসিক ফল। জর্জিয়ায় কেইশা ল্যান্স বটমস জয়ী হতে যাচ্ছেন বলে প্রক্ষেপণ দিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো; তিনিই হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর। নিউ ইয়র্কে সহজ জয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। অন্যদিকে নির্বাচনের দিন হোয়াইট হাউসে থেকেই ফলাফলের দিকে নজর রাখেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; এদিন তাঁর কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি ছিল না।
কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়নের এজেন্ডা থমকে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা তদন্তের পথ খুলে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বেশ কিছু আসনে গণনা বাকি থাকায় চূড়ান্ত চিত্র পেতে আরও কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। জর্জিয়া ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে কোনো সিনেট প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে আগামী ১ ডিসেম্বর হবে দ্বিতীয় দফা অর্থাৎ রানঅফ ভোট।



















