ছয় দিনের অসন্তোষের পর কাজে ফিরলেন পোশাকশ্রমিকরা, সাভার-আশুলিয়ায় উৎপাদন শুরু
- আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 1
টানা ছয় দিনের অসন্তোষ, বিক্ষোভ আর সংঘর্ষের পর অবশেষে কাজে ফিরলেন পোশাকশ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকালে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) সব কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সকাল থেকে শ্রমিকরা কেউ কারখানার নিজস্ব পরিবহনে, কেউ পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে পৌঁছান। আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরসহ শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবি ও অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে; ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও চলছে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফেরার এবং মালিকদের বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
শ্রমমন্ত্রী জানান, গত রোববার ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশের পর রেকর্ড সময়ে বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ডিসেম্বরে নতুন মজুরি চূড়ান্ত হবে। শ্রমিক পক্ষকে লিখিতভাবে বোর্ডের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির শ্রমিক নেতারাও শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান; পাশাপাশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও আটক শ্রমিকদের মুক্তির দাবি তোলেন তারা। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গাজীপুরে আন্দোলনের সময় হামলায় নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এই সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত ছয় দিন ধরে সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের পঞ্চম দিনে সাভারে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং ওসিসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন; ষষ্ঠ দিনে গাজীপুরে দিনভর সংঘর্ষ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় ৩৫টি কারখানা বন্ধ থাকে। তবে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।



















