আমদানির ডলারের দর বেড়ে ১২৫ টাকা, ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 1
মুদ্রাবাজারে ডলারের ওপর চাপ বাড়ছেই। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানির ঋণপত্রের (এলসি) ক্ষেত্রে ডলারের দর বেড়ে ১২৫ টাকা ছুঁয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর আমদানির ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৪ টাকা ১৮ পয়সা; মঙ্গলবার তা ১২৫ টাকায় পৌঁছায়।
ব্যাংকগুলোর ঘোষিত দর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জনতা ব্যাংকে ডলারের স্পট বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৫ টাকা, ক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা। সোনালী ব্যাংকে ক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা, বিক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা ৭০ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে ১২৪ টাকা ৬০ পয়সায়; সিটি ব্যাংকের বিক্রয়মূল্যও ছিল একই, ১২৪ টাকা ৬০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায়। আর খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৮ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত দরে।
ব্যাংকারদের মতে, জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির বকেয়া দায় পরিশোধের চাপ বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও এলএনজির দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে; তার প্রভাব পড়ছে বিনিময় হারে।
হঠাৎ এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সোমবার সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এই সতর্কবার্তা দেন। বৈঠকে বলা হয়, বেশিরভাগ ব্যাংকের ডলার ধারণের অবস্থা অর্থাৎ নিট ওপেন পজিশন সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে; এই পরিস্থিতিতে বাজারের অজুহাতে কেউ যেন বাড়তি ফায়দা লোটার সুযোগ না পায়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে।
আমদানিনির্ভর পণ্যের দামে ডলারের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, এলসির ডলার দামি হলে আমদানি ব্যয় বাড়ে, যার চূড়ান্ত চাপ গিয়ে পড়ে ভোক্তার ওপর। এখন সবার নজর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—শুধু সতর্কবার্তায় বাজার ঠান্ডা হয়, নাকি দর আরও বাড়তে থাকে।



















