Dhaka ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 17

আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ—তিন মেগা প্রকল্পের নির্মাণ পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির সাংবাদিকদের জানান, দুই সেতুর নির্মাণ নিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এখন চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হলে সেতু দুটির অবস্থান, চূড়ান্ত নকশা ও প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় এর সম্ভাব্য ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সেতু হলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে; পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এতে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হাবিবুর রশিদ, ফরহাদ হোসেন আজাদ ও মো. রাজিব আহসান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রকল্প কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে প্রথম পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলাতে দ্বিতীয় সেতুর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তাবও নতুন নয়—ফারাক্কার প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি মেটাতে গঙ্গা ব্যারেজের ধারণা বছরের পর বছর আলোচনায় থাকলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এবার তিনটি প্রকল্পই একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠকে প্রাধান্য পেল।

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৯:০৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ—তিন মেগা প্রকল্পের নির্মাণ পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির সাংবাদিকদের জানান, দুই সেতুর নির্মাণ নিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এখন চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হলে সেতু দুটির অবস্থান, চূড়ান্ত নকশা ও প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় এর সম্ভাব্য ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সেতু হলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে; পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এতে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হাবিবুর রশিদ, ফরহাদ হোসেন আজাদ ও মো. রাজিব আহসান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রকল্প কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে প্রথম পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলাতে দ্বিতীয় সেতুর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তাবও নতুন নয়—ফারাক্কার প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি মেটাতে গঙ্গা ব্যারেজের ধারণা বছরের পর বছর আলোচনায় থাকলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এবার তিনটি প্রকল্পই একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠকে প্রাধান্য পেল।