স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াত-এনসিপি টানাপোড়েন, ঢাকার দুই সিটি নিয়ে দূরত্ব
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 1
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গড়ে ওঠা ঐক্যে ফাটলের আভাস মিলছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রার্থিতা নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে দুই দলের একাধিক নেতার বক্তব্য ও কর্মসূচির ধরনে ইঙ্গিত মিলছে।
এনসিপি শুরু থেকেই বলে আসছে, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা এককভাবে অংশ নেবে। দলটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এবং উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছে। এনসিপির সূত্রগুলোর দাবি, সমঝোতার আলোচনায় তারা চেয়েছিল জামায়াত যেন ঢাকার দুই সিটি ছেড়ে দেয়। জামায়াত চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা সিটি ছাড়তে রাজি হলেও ঢাকা নিয়ে ছাড় দিতে রাজি হয়নি। এর মধ্যে খবর বেরিয়েছে, ঢাকা উত্তরে জামায়াত নিজেদের প্রার্থী হিসেবে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনের নাম চূড়ান্ত করেছে।
টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলেছে মাঠের কর্মসূচিতেও। গত ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন অনুপস্থিত ছিলেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ওই কর্মসূচিতে দলটির হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল হান্নান মাসউদসহ অন্য নেতারা অংশ নিয়েছিলেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা এককভাবে অংশ নিতে চাই। জামায়াতের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো ঐক্যের সম্ভাবনা দেখি না। তবে এটা নিয়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, বিষয়টা এমনও না।’ দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্য, সংসদ, সংস্কার ও বিচারের ইস্যুতে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটে আছেন; তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদাভাবেই করবেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অবশ্য সমঝোতার আশা এখনো ছাড়া হয়নি। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখই এখনো ঘোষণা হয়নি; নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে সমঝোতা হতে পারে। আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট করার সিদ্ধান্ত নেই, তবে আলাদাভাবে নির্বাচন করলেও জোটে কোনো সমস্যা হবে না।
শুধু এনসিপিই নয়, জোটের আরও কয়েকটি শরিক দল স্থানীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার পক্ষে থাকায় জামায়াতের একক সিদ্ধান্তে ঐক্যের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি রাজনৈতিক দল ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’ নামে আলাদা প্ল্যাটফর্ম গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই স্থানীয় নির্বাচনের সমীকরণ নিয়ে সরগরম হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন; শেষ পর্যন্ত সমঝোতা নাকি আলাদা লড়াই, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




















