চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৮৮ শতাংশ, বড় অবদান পোশাক খাতের
- আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 16
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৮৮ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই-অক্টোবর সময়ে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ১ হাজার ৬১৪ কোটি ডলারের চেয়ে বেশি। প্রবৃদ্ধির এই ধারায় সবচেয়ে বড় অবদান বরাবরের মতো তৈরি পোশাক খাতের।
শুধু অক্টোবর মাসেই রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার — গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৪.৩৯ শতাংশ এবং আগের মাস সেপ্টেম্বরের (৩৯৪ কোটি ডলার) তুলনায় ১.৩৯ শতাংশ বেশি। চার মাসে পোশাক খাত থেকে এসেছে ১ হাজার ৩৭৫ কোটি ডলার, অর্থাৎ মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই এই এক খাত থেকে। এর মধ্যে নিটওয়্যার থেকে আয় ৭৭৩ কোটি ডলার, আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬.৭৯ শতাংশ বেশি; শুধু অক্টোবরে নিটওয়্যার আয় ১৭৭ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬.৪৮ শতাংশ। পোশাকের পাশাপাশি অক্টোবরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানিও বেড়েছে; পাট খাতের আয় প্রায় ৯ কোটি ডলার, গত বছরের একই মাসের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি।
বাজারভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বড় একক গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে চার মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৩৫ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ১১.৫১ শতাংশ — মোট আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে এই এক বাজার থেকেই। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফের ভাষ্যে, এই প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের বাড়ন্ত প্রতিযোগিতা-সক্ষমতারই প্রমাণ; প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ উদীয়মান বাজারেও রপ্তানি বাড়ছে। বড় বাজারগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধির হারে সবচেয়ে এগিয়ে তুরস্ক, সেখানে আয় বেড়েছে ৮২.৬৯ শতাংশ। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্সেও ইতিবাচক ধারা রয়েছে — অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এসেছে প্রায় ১ হাজার ১৪৬ কোটি ডলার, প্রতি মাসেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে প্রবৃদ্ধির এই সুখবরের পাশাপাশি ঝুঁকির দিকটাও স্পষ্ট: আয়ের ৮০ শতাংশই নির্ভর করে একটিমাত্র খাতের ওপর, আর সেই পোশাক খাতই এখন মজুরি নিয়ে টানা শ্রমিক অসন্তোষে উত্তাল — সাভার-আশুলিয়ায় কয়েক দিনের আন্দোলনে ২৩০ কারখানায় ছুটি পর্যন্ত গেছে পরিস্থিতি। নতুন মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও শিল্পাঞ্চলের স্থিতি তাই শুধু শ্রমিক-মালিকের বিষয় নয়, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখার প্রশ্নেও সরাসরি জড়িত।




















