এইচএসসি ও সমমানের ফল আজ বেলা ১১টায়, অপেক্ষায় ১২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী
- আপডেট সময় : ০৯:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 78
দীর্ঘ আড়াই মাসের প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে আজ। চলতি বছরের এইচএসসি ফলাফল ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায়। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে ফল প্রকাশ করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফল প্রকাশ: আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর), বেলা ১১টা
মোট পরীক্ষার্থী: ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন (১১টি শিক্ষা বোর্ড, ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান)
ওয়েবসাইট: eduboardresults.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd
এসএমএস: HSC <স্পেস> বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল <স্পেস> 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন: ১–৭ নভেম্বর, শুধু অনলাইনে; ফি প্রতি পত্র ১৫০ টাকা
ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা তিনভাবে ফল জানতে পারবেন — নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, অনলাইনে এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে।
অনলাইনে ফল দেখতে educationboardresults.gov.bd অথবা eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে পরীক্ষার নাম, বছর ও বোর্ড নির্বাচন করে রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একই ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের ফলাফলের শিট ডাউনলোড করতে পারবে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন শিক্ষা বোর্ড — শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ডের কার্যালয় বা সংবাদপত্রের কার্যালয় থেকে সরাসরি ফল সংগ্রহ করা যাবে না।
মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে: HSC লিখে একটি স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং স্পেস দিয়ে 2026 লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
উদাহরণ: ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীকে লিখতে হবে — HSC DHA 123456 2026 — এবং পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
সাধারণ বোর্ডগুলোর তিন অক্ষরের কোড: ঢাকা — DHA, রাজশাহী — RAJ, কুমিল্লা — COM, যশোর — JES, চট্টগ্রাম — CHI, সিলেট — SYL, বরিশাল — BAR, দিনাজপুর — DIN, ময়মনসিংহ — MYM।
প্রকাশিত ফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) থেকে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আবেদন চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এবং পুরো প্রক্রিয়াটি হবে শুধু অনলাইনে — ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
আবেদন করতে rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নিজের শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে — পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরেই এসএমএস পাঠানো হবে। পরের ধাপে বিষয়ভিত্তিক ফল দেখে যেসব বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ফি পরিশোধ করতে হবে।
প্রতিটি পত্রের জন্য ফি ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি দেওয়া যাবে। ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন সম্পন্ন হবে।
মনে রাখতে হবে, ফি পরিশোধের আগে ‘মুছে ফেলুন’ অপশন ব্যবহার করে নির্বাচিত বিষয় বদলানো যাবে; কিন্তু ফি পরিশোধের পর আবেদন করা কোনো বিষয় বাতিল করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না। একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর নতুন বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় আবার আবেদন করা যাবে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে পরীক্ষা চলে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট; তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। স্থগিত পরীক্ষাগুলো পরে নেওয়া হয় এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয়। সব মিলিয়ে ফল প্রকাশ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে আড়াই মাসের বেশি।
এইচএসসির ফল শুধু একটি পরীক্ষার রেজাল্ট নয় — এর ওপরই দাঁড়িয়ে আছে ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির পরিকল্পনা। ফল প্রকাশের পরই শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্ব। বেলা ১১টায় একযোগে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ওয়েবসাইটে ঢোকার চেষ্টা করায় শুরুর দিকে ওয়েবসাইট ধীরগতির বা সাময়িক অনুপলব্ধ থাকতে পারে — সেক্ষেত্রে এসএমএস পদ্ধতি অপেক্ষাকৃত নির্ভরযোগ্য বিকল্প হতে পারে।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
গত বছরের (২০২৫) সঙ্গে তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট — গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন — গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। টিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ বছরের মধ্যে এবার এইচএসসিতে পাসের হার সর্বনিম্ন।




















