Dhaka ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘রাজাকারের সন্তান’ বলা আখতারুজ্জামান এখন জামায়াতের কাছে হিরো, ফেসবুক পোস্টে বললেন রাশেদ খান

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 15

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের সন্তান’ বলা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এখন জামায়াতের কাছে হিরো — মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। এক মাস তিন দিন কারাভোগের পর এদিন সকালে কারামুক্ত হয়ে জামায়াত নেতাদের সংবর্ধনা পান আখতারুজ্জামান; সেই প্রেক্ষাপটেই পোস্টটি দেন রাশেদ খান।

পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফেস দ্য পিপল আয়োজিত আলোচিত টকশোটিতে তিনিও উপস্থিত ছিলেন এবং আখতারুজ্জামান তাঁকেও ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। তাঁর বর্ণনায়, টকশোর সঞ্চালক সাগর আখতারুজ্জামানকে প্রশ্ন করেছিলেন—এরা সবাই রাজাকারের বাচ্চা? জবাবে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট, এরা শতভাগ রাজাকারের সন্তান!’

পোস্টে আখতারুজ্জামানকে ‘জুলাই গাদ্দার’ ও ‘গণহত্যার মদদদাতা’ আখ্যা দিয়ে রাশেদ খান লিখেছেন, একসময় জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল বলা এই নেতাই এখন ‘নারায়ে তকবির’ স্লোগান দিতে শিখে গেছেন এবং জামায়াত নেতা হয়ে গেছেন। তাঁর মতে, আখতারুজ্জামান এখন জামায়াতের কাছে হিরো হয়ে উঠলেও তাঁর অতীত বক্তব্য বদলে যায়নি। শেখ হাসিনাও ক্ষমা চেয়ে জামায়াতে যোগ দিতে চাইলে একই সুযোগ পাবেন কি না—পোস্টে জামায়াতের কাছে সেই প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।

এদিন সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে মুক্তি পান জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান। কারাফটকে তাঁকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা। দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে তাঁর সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামান কোনো অন্যায় করেননি; শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়েই তাঁকে কারাভোগ করতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদ ‘শতভাগ কাজে লেগেছে’ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চলবে।

কারামুক্তির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ও জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতে আখতারুজ্জামান নিজের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য এসেছে এভাবে—‘ইয়াহিয়া খানই তো ঠেকাতে পারেনি, তোমরা কী ঠেকাইবা!’ তাঁর ভাষ্য, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন শাসক ইয়াহিয়া খান তাঁদের দমাতে পারেননি, এখন ডিবি-পুলিশ কীভাবে ঠেকাবে। রাশেদ খান তাঁর পোস্টে আজকের এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেই মন্তব্য করেছেন।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির আখতারুজ্জামান সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আপনি এখন আর শুধু জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন, সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন।’ সেদিনই পৃথক এক ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছিলেন, ‘গণহত্যার মদদদাতা মেজর আখতারুজ্জামানকে বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে জামায়াতের আমির কার্যত গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।’ একই পোস্টে তিনি আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণহত্যায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে মামলার দাবি তোলেন।

বিতর্কের মূলে আখতারুজ্জামানের জুলাই ২০২৪-এর টকশো মন্তব্য। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ওই টকশোর বক্তব্যে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি—আজকে শিক্ষার্থীরা যারা আন্দোলন করছে, এরা সবাই রাজাকারের সন্তান, হান্ড্রেড পারসেন্ট মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী।’

মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ঢাকায় ফেরার পর বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকট ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারি কাজে বাধা, কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরদিন বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ; এক দিনের রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। দায়রা আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে গেলে গত রোববার (১ নভেম্বর) অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান তিনি; সোমবার (২ নভেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই জামিন বহাল রাখেন।

রাশেদ খানের আজকের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

‘রাজাকারের সন্তান’ বলা আখতারুজ্জামান এখন জামায়াতের কাছে হিরো, ফেসবুক পোস্টে বললেন রাশেদ খান

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের সন্তান’ বলা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এখন জামায়াতের কাছে হিরো — মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। এক মাস তিন দিন কারাভোগের পর এদিন সকালে কারামুক্ত হয়ে জামায়াত নেতাদের সংবর্ধনা পান আখতারুজ্জামান; সেই প্রেক্ষাপটেই পোস্টটি দেন রাশেদ খান।

পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফেস দ্য পিপল আয়োজিত আলোচিত টকশোটিতে তিনিও উপস্থিত ছিলেন এবং আখতারুজ্জামান তাঁকেও ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। তাঁর বর্ণনায়, টকশোর সঞ্চালক সাগর আখতারুজ্জামানকে প্রশ্ন করেছিলেন—এরা সবাই রাজাকারের বাচ্চা? জবাবে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট, এরা শতভাগ রাজাকারের সন্তান!’

পোস্টে আখতারুজ্জামানকে ‘জুলাই গাদ্দার’ ও ‘গণহত্যার মদদদাতা’ আখ্যা দিয়ে রাশেদ খান লিখেছেন, একসময় জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল বলা এই নেতাই এখন ‘নারায়ে তকবির’ স্লোগান দিতে শিখে গেছেন এবং জামায়াত নেতা হয়ে গেছেন। তাঁর মতে, আখতারুজ্জামান এখন জামায়াতের কাছে হিরো হয়ে উঠলেও তাঁর অতীত বক্তব্য বদলে যায়নি। শেখ হাসিনাও ক্ষমা চেয়ে জামায়াতে যোগ দিতে চাইলে একই সুযোগ পাবেন কি না—পোস্টে জামায়াতের কাছে সেই প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।

এদিন সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে মুক্তি পান জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান। কারাফটকে তাঁকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা। দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে তাঁর সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামান কোনো অন্যায় করেননি; শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়েই তাঁকে কারাভোগ করতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদ ‘শতভাগ কাজে লেগেছে’ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চলবে।

কারামুক্তির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ও জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতে আখতারুজ্জামান নিজের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য এসেছে এভাবে—‘ইয়াহিয়া খানই তো ঠেকাতে পারেনি, তোমরা কী ঠেকাইবা!’ তাঁর ভাষ্য, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন শাসক ইয়াহিয়া খান তাঁদের দমাতে পারেননি, এখন ডিবি-পুলিশ কীভাবে ঠেকাবে। রাশেদ খান তাঁর পোস্টে আজকের এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেই মন্তব্য করেছেন।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির আখতারুজ্জামান সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আপনি এখন আর শুধু জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন, সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন।’ সেদিনই পৃথক এক ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছিলেন, ‘গণহত্যার মদদদাতা মেজর আখতারুজ্জামানকে বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে জামায়াতের আমির কার্যত গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।’ একই পোস্টে তিনি আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণহত্যায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে মামলার দাবি তোলেন।

বিতর্কের মূলে আখতারুজ্জামানের জুলাই ২০২৪-এর টকশো মন্তব্য। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ওই টকশোর বক্তব্যে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি—আজকে শিক্ষার্থীরা যারা আন্দোলন করছে, এরা সবাই রাজাকারের সন্তান, হান্ড্রেড পারসেন্ট মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী।’

মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ঢাকায় ফেরার পর বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকট ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারি কাজে বাধা, কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরদিন বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ; এক দিনের রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। দায়রা আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে গেলে গত রোববার (১ নভেম্বর) অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান তিনি; সোমবার (২ নভেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই জামিন বহাল রাখেন।

রাশেদ খানের আজকের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।