Dhaka ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোনো দৃশ্য কর্তন ছাড়াই ছাড়পত্র পেল দেশের প্রথম এআই সিনেমা ‘গ্যাপ’, মুক্তি পাচ্ছে আজই

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 67

গ্যাপ সিনেমার পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা চলচ্চিত্রে প্রযুক্তির এক নতুন পরীক্ষা এবার পর্দায় আসছে দাপ্তরিক স্বীকৃতি নিয়েই। সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘গ্যাপ’—যাকে দেশের প্রথম এআই সিনেমা ‘গ্যাপ’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে—বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে কোনো দৃশ্য কর্তন ছাড়াই প্রদর্শনের ছাড়পত্র পেয়েছে। শুধু তাই নয়, সিনেমাটি দেখে বোর্ডের সদস্যরাও নির্মাণের প্রশংসা করেছেন বলে জানা গেছে। মাবরুর রশিদ বান্নাহ পরিচালিত ছবিটি আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

এআই দিয়ে তৈরি সিনেমা সার্টিফিকেশন বোর্ডে কেমন প্রতিক্রিয়া পাবে—তা নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে কৌতূহল ছিল। শেষ পর্যন্ত ‘গ্যাপ’ পেল কর্তনবিহীন ছাড়পত্র। পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহর মতে, প্রচলিত নির্মাণপদ্ধতির বাইরে গিয়ে নেওয়া এই উদ্যোগ দলের জন্য বড় অর্জন। শুরুতে সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তিতে সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হলেও তাঁরা চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলেন; একটি দৃশ্যও বাদ না দিয়ে ছাড়পত্র পাওয়াটাই সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি। ‘গ্যাপ’-এর ছাড়পত্র নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে দ্য বিজনেস ডেইলিতে।

‘গ্যাপ’-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর নির্মাণপ্রক্রিয়া। ছবিটির চিত্রনাট্য, চরিত্র নির্মাণ, অ্যানিমেশন, আবহসংগীত এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের বড় একটি অংশ তৈরি করা হয়েছে এআই প্রযুক্তির সহায়তায়। আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ফ্রেম বাই ফ্রেম সাজানো হয়েছে প্রতিটি দৃশ্য। অর্থাৎ ক্যামেরা, সেট আর প্রচলিত শুটিং-কাঠামোর বদলে এখানে মূল হাতিয়ার ছিল সফটওয়্যার আর নির্মাতাদের নির্দেশনা—বাংলা সিনেমায় এমন পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ এটাই প্রথম।

এআই-নির্মিত হলেও ছবিটির অভিনয় ও ভিজ্যুয়াল নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত আছেন একঝাঁক পরিচিত ও নতুন মুখ—আর্ক শিহাব, মাবরুর রশিদ বান্নাহ, রিজভী রিজু, সিনথিয়া ইয়াসমিন নুপুর, মিষ্টি ঘোষ, মোমেনা চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম রাফি ও জাহাঙ্গীর আলম। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন আকবর হায়দার মুন্না। নির্মাতা বান্নাহ টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য নাটক-কনটেন্ট নির্মাণে পরিচিত নাম; এবার তিনি হাত দিলেন পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্রে।

বিশ্বজুড়ে এআই এখন সংগীত, বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে সিনেমার পোস্ট-প্রোডাকশনেও ঢুকে পড়েছে। তবে পুরো একটি সিনেমা—চিত্রনাট্য থেকে পর্দার দৃশ্য পর্যন্ত—এআই দিয়ে তৈরি করার উদ্যোগ বাংলাদেশে এটাই প্রথম বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘গ্যাপ’ নিয়ে আলোচনার মূল কারণও সেটাই: এটি একসঙ্গে প্রযুক্তি আর চলচ্চিত্র—দুই জগতের খবর। পরিচালকের প্রত্যাশা, সীমিত বাজেট ও জনবল দিয়েও যে আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র বানানো সম্ভব, ‘গ্যাপ’ তা প্রমাণ করবে। একই সঙ্গে এই পরীক্ষা নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিতে পারে—এআই-নির্মিত কাজে শিল্পীর ভূমিকা, মৌলিকত্ব ও ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন আগামী দিনে আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

প্রেক্ষাগৃহ নয়, ‘গ্যাপ’-এর মুক্তির মঞ্চ ইউটিউব—ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের চ্যানেলে আজই ছবিটি প্রকাশের কথা। ডিজিটাল মুক্তির ফলে দর্শক প্রতিক্রিয়া মিলবে তাৎক্ষণিকভাবেই, আর সেই প্রতিক্রিয়াই ঠিক করবে দেশে এআই সিনেমার এই ধারাটি পরীক্ষা হিসেবেই থেকে যাবে, নাকি নতুন নির্মাতাদের জন্য খুলে দেবে আরেকটি দরজা। ছবিটি প্রকাশের পর দর্শক সাড়া ও সমালোচকদের মূল্যায়ন এলে এই প্রতিবেদনে তা জানানো হবে।

শেয়ার করুন

কোনো দৃশ্য কর্তন ছাড়াই ছাড়পত্র পেল দেশের প্রথম এআই সিনেমা ‘গ্যাপ’, মুক্তি পাচ্ছে আজই

আপডেট সময় : ০৩:১৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রে প্রযুক্তির এক নতুন পরীক্ষা এবার পর্দায় আসছে দাপ্তরিক স্বীকৃতি নিয়েই। সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘গ্যাপ’—যাকে দেশের প্রথম এআই সিনেমা ‘গ্যাপ’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে—বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে কোনো দৃশ্য কর্তন ছাড়াই প্রদর্শনের ছাড়পত্র পেয়েছে। শুধু তাই নয়, সিনেমাটি দেখে বোর্ডের সদস্যরাও নির্মাণের প্রশংসা করেছেন বলে জানা গেছে। মাবরুর রশিদ বান্নাহ পরিচালিত ছবিটি আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

এআই দিয়ে তৈরি সিনেমা সার্টিফিকেশন বোর্ডে কেমন প্রতিক্রিয়া পাবে—তা নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে কৌতূহল ছিল। শেষ পর্যন্ত ‘গ্যাপ’ পেল কর্তনবিহীন ছাড়পত্র। পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহর মতে, প্রচলিত নির্মাণপদ্ধতির বাইরে গিয়ে নেওয়া এই উদ্যোগ দলের জন্য বড় অর্জন। শুরুতে সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তিতে সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হলেও তাঁরা চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলেন; একটি দৃশ্যও বাদ না দিয়ে ছাড়পত্র পাওয়াটাই সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি। ‘গ্যাপ’-এর ছাড়পত্র নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে দ্য বিজনেস ডেইলিতে।

‘গ্যাপ’-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর নির্মাণপ্রক্রিয়া। ছবিটির চিত্রনাট্য, চরিত্র নির্মাণ, অ্যানিমেশন, আবহসংগীত এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের বড় একটি অংশ তৈরি করা হয়েছে এআই প্রযুক্তির সহায়তায়। আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ফ্রেম বাই ফ্রেম সাজানো হয়েছে প্রতিটি দৃশ্য। অর্থাৎ ক্যামেরা, সেট আর প্রচলিত শুটিং-কাঠামোর বদলে এখানে মূল হাতিয়ার ছিল সফটওয়্যার আর নির্মাতাদের নির্দেশনা—বাংলা সিনেমায় এমন পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ এটাই প্রথম।

এআই-নির্মিত হলেও ছবিটির অভিনয় ও ভিজ্যুয়াল নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত আছেন একঝাঁক পরিচিত ও নতুন মুখ—আর্ক শিহাব, মাবরুর রশিদ বান্নাহ, রিজভী রিজু, সিনথিয়া ইয়াসমিন নুপুর, মিষ্টি ঘোষ, মোমেনা চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম রাফি ও জাহাঙ্গীর আলম। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন আকবর হায়দার মুন্না। নির্মাতা বান্নাহ টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য নাটক-কনটেন্ট নির্মাণে পরিচিত নাম; এবার তিনি হাত দিলেন পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্রে।

বিশ্বজুড়ে এআই এখন সংগীত, বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে সিনেমার পোস্ট-প্রোডাকশনেও ঢুকে পড়েছে। তবে পুরো একটি সিনেমা—চিত্রনাট্য থেকে পর্দার দৃশ্য পর্যন্ত—এআই দিয়ে তৈরি করার উদ্যোগ বাংলাদেশে এটাই প্রথম বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘গ্যাপ’ নিয়ে আলোচনার মূল কারণও সেটাই: এটি একসঙ্গে প্রযুক্তি আর চলচ্চিত্র—দুই জগতের খবর। পরিচালকের প্রত্যাশা, সীমিত বাজেট ও জনবল দিয়েও যে আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র বানানো সম্ভব, ‘গ্যাপ’ তা প্রমাণ করবে। একই সঙ্গে এই পরীক্ষা নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিতে পারে—এআই-নির্মিত কাজে শিল্পীর ভূমিকা, মৌলিকত্ব ও ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন আগামী দিনে আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

প্রেক্ষাগৃহ নয়, ‘গ্যাপ’-এর মুক্তির মঞ্চ ইউটিউব—ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের চ্যানেলে আজই ছবিটি প্রকাশের কথা। ডিজিটাল মুক্তির ফলে দর্শক প্রতিক্রিয়া মিলবে তাৎক্ষণিকভাবেই, আর সেই প্রতিক্রিয়াই ঠিক করবে দেশে এআই সিনেমার এই ধারাটি পরীক্ষা হিসেবেই থেকে যাবে, নাকি নতুন নির্মাতাদের জন্য খুলে দেবে আরেকটি দরজা। ছবিটি প্রকাশের পর দর্শক সাড়া ও সমালোচকদের মূল্যায়ন এলে এই প্রতিবেদনে তা জানানো হবে।