Dhaka ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপি লড়বে আলাদাভাবে: সারজিস আলম

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 26

পঞ্চগড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনসিপি নেতা সারজিস আলম। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম জানিয়েছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটগতভাবে নয়—নিজ নিজ প্রার্থী ও প্রতীক নিয়ে আলাদাভাবে লড়বে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থীও ঠিক হয়ে গেছে: উত্তরে আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জামায়াতের পক্ষ থেকেও একই অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে—কেন্দ্রীয়ভাবে জোটের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

সারজিস আলম বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট হয়েছিল। বর্তমানে সংসদে তারা বিরোধী দলীয় জোট হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন। সেই জোট এখনো চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে এককভাবে নির্বাচন করবে—এটি দলীয় সিদ্ধান্ত।’

পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক পঞ্চগড় খবর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর ভাষায়, ‘স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত তাদের মতো করে এবং এনসিপি নিজস্ব প্রতীকে ও অবস্থান থেকে নির্বাচন করবে।’

এর মানে, সংসদে এক টেবিলে বসলেও সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে শরিক দুই দল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। একই আসনে দুই শরিকের প্রার্থী দাঁড়ালে ভোট ভাগ হওয়ার ঝুঁকি থাকছেই; তবে দুই দলই তৃণমূলে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবেই এই লড়াইকে দেখছে—নতুন দল এনসিপির জন্য যা হবে দেশজুড়ে জনসমর্থন মাপার প্রথম বড় পরীক্ষা। সারজিস আলমের বক্তব্যের বিস্তারিত উঠে এসেছে দৈনিক আদিনের প্রতিবেদনে।

ঢাকার দুই মেয়র প্রার্থী প্রসঙ্গে সারজিসের বক্তব্য দ্ব্যর্থহীন। আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড়ের হিসাব মাথায় রেখে প্রার্থী করা হয়নি; শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন, জানিয়েছেন তিনি।

প্রার্থী ঘোষণার এই ধারাটা হঠাৎ নয়। এর আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানিয়েছিলেন, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি; প্রথম ধাপে ১০০ প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। সেই প্রস্তুতি অনুযায়ী ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লড়ার কথা।

একই অনুষ্ঠানে সারজিস আলম দাবি করেন, গত আট মাসে বিএনপি প্রতিনিয়ত জনসমর্থন হারিয়েছে এবং দেশে সুশাসনের অবনতি ঘটেছে; এই পরিস্থিতিতে জনগণ বিকল্প শক্তি হিসেবে এনসিপিকে বেছে নেবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্যেও একই সুর। তিনি বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট করার সিদ্ধান্ত নেই। তবে কোনো জেলা, উপজেলা বা এলাকায় শরিক দলগুলো আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না—অর্থাৎ কেন্দ্রের দরজা বন্ধ হলেও স্থানীয় সমঝোতার জানালা খোলা রাখা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার আগেই জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এগিয়ে নিচ্ছে; কোথাও কোথাও প্রায় এক বছর আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফরিদী বলেছেন, জামায়াত এককভাবে অংশ নিলে তারাও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

তবে এত প্রস্তুতির পরও মূল প্রশ্নটি এখনো ঝুলে আছে: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিলই এখনো ঘোষণা হয়নি। দলগুলো মাঠ সাজিয়ে ফেললেও ভোটের তারিখ জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার জন্য।

শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপি লড়বে আলাদাভাবে: সারজিস আলম

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পঞ্চগড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম জানিয়েছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটগতভাবে নয়—নিজ নিজ প্রার্থী ও প্রতীক নিয়ে আলাদাভাবে লড়বে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থীও ঠিক হয়ে গেছে: উত্তরে আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জামায়াতের পক্ষ থেকেও একই অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে—কেন্দ্রীয়ভাবে জোটের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

সারজিস আলম বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট হয়েছিল। বর্তমানে সংসদে তারা বিরোধী দলীয় জোট হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন। সেই জোট এখনো চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে এককভাবে নির্বাচন করবে—এটি দলীয় সিদ্ধান্ত।’

পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক পঞ্চগড় খবর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর ভাষায়, ‘স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত তাদের মতো করে এবং এনসিপি নিজস্ব প্রতীকে ও অবস্থান থেকে নির্বাচন করবে।’

এর মানে, সংসদে এক টেবিলে বসলেও সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে শরিক দুই দল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। একই আসনে দুই শরিকের প্রার্থী দাঁড়ালে ভোট ভাগ হওয়ার ঝুঁকি থাকছেই; তবে দুই দলই তৃণমূলে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবেই এই লড়াইকে দেখছে—নতুন দল এনসিপির জন্য যা হবে দেশজুড়ে জনসমর্থন মাপার প্রথম বড় পরীক্ষা। সারজিস আলমের বক্তব্যের বিস্তারিত উঠে এসেছে দৈনিক আদিনের প্রতিবেদনে।

ঢাকার দুই মেয়র প্রার্থী প্রসঙ্গে সারজিসের বক্তব্য দ্ব্যর্থহীন। আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড়ের হিসাব মাথায় রেখে প্রার্থী করা হয়নি; শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন, জানিয়েছেন তিনি।

প্রার্থী ঘোষণার এই ধারাটা হঠাৎ নয়। এর আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানিয়েছিলেন, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি; প্রথম ধাপে ১০০ প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। সেই প্রস্তুতি অনুযায়ী ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লড়ার কথা।

একই অনুষ্ঠানে সারজিস আলম দাবি করেন, গত আট মাসে বিএনপি প্রতিনিয়ত জনসমর্থন হারিয়েছে এবং দেশে সুশাসনের অবনতি ঘটেছে; এই পরিস্থিতিতে জনগণ বিকল্প শক্তি হিসেবে এনসিপিকে বেছে নেবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্যেও একই সুর। তিনি বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট করার সিদ্ধান্ত নেই। তবে কোনো জেলা, উপজেলা বা এলাকায় শরিক দলগুলো আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না—অর্থাৎ কেন্দ্রের দরজা বন্ধ হলেও স্থানীয় সমঝোতার জানালা খোলা রাখা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার আগেই জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এগিয়ে নিচ্ছে; কোথাও কোথাও প্রায় এক বছর আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফরিদী বলেছেন, জামায়াত এককভাবে অংশ নিলে তারাও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

তবে এত প্রস্তুতির পরও মূল প্রশ্নটি এখনো ঝুলে আছে: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিলই এখনো ঘোষণা হয়নি। দলগুলো মাঠ সাজিয়ে ফেললেও ভোটের তারিখ জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার জন্য।