বদঅভ্যাস নাকি অলসতা? সময়ে উঠতে না পারা ,আসল কারণ ও প্রতিকার
- আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 23
স্বাস্থ্য ডেক্স:
অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা কিংবা সকালে নির্ধারিত সময়ে উঠতে না পারা—আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রায় এটি প্রায় প্রতিটি মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা। অনেকেই বিষয়টিকে কেবল অলসতা বা বদঅভ্যাস বলে উড়িয়ে দেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে উঠতে দেরি হওয়া কেবল কোনো মানসিক অনিচ্ছা নয়; এর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ভুল অভ্যাস এবং হরমোনের কিছু জৈবিক ভারসাম্যহীনতা।

সকালে ঘুম না ভাঙার মূল কারণসমূহ:
১. অনিয়মিত স্লিপ সাইকেল (Sleep Cycle):
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে না যাওয়া এবং ছুটির দিনে অতিরিক্ত ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের প্রাকৃতিক বায়োলজিক্যাল ক্লক বা ‘সারকাডিয়ান রিদম’ (Circadian Rhythm)-কে এলোমেলো করে দেয়। ফলে সকাল হলেও শরীর ঘুমের সংকেত পাঠাতে থাকে।
২. শোবার আগে ব্লু-লাইটের প্রভাব:
ঘুমানোর ঠিক আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। এতে ঘুমের মান খারাপ হয় এবং সকালে ঘুম ভাঙলেও ক্লান্তি দূর হয় না।
৩. মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশন:
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিকভাবে বিষণ্ন থাকলে ঘুমের গভীরতা কমে যায়। শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় সকালে ওঠার তাগিদ অনুভূত হয় না।
৪. পুষ্টির অভাব:
শরীরে ভিটামিন ডি, বি১২ এবং আয়রনের ঘাটতি থাকলে অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ হয়, যা সকালে সময়মতো ঘুম থেকে ওঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সকালে সহজে ঘুম ভাঙার কার্যকরী প্রতিকার:
- ১৫ মিনিট নিয়ম মেনে চলুন: এক লাফে সকালে ২ ঘণ্টা আগে ওঠার চেষ্টা না করে প্রতিদিন ১৫ মিনিট করে আগে ওঠার চেষ্টা করুন।
- ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন অফ রাখুন: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ দূরে সরিয়ে রাখুন।
- সকালে প্রাকৃতিক আলো নিন: ঘুম থেকে উঠেই ঘরের পর্দা খুলে দিন। সকালের সূর্যের আলো চোখ ও মস্তিষ্কে পড়ার সাথে সাথে শরীর রিফ্রেশ হয়ে ওঠে এবং ঘুমের হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয়।
- রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন: ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা চা-কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তা কেবল কর্মক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং মানসিক স্বাস্থ্য ও হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে।




















