Dhaka ১০:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন, বললেন জামায়াতে হারিয়ে যাচ্ছে দলটি

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 1

সামান্তা শারমিন (ফাইল ছবি)

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছাড়লেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে তিনি দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন; সামাজিক মাধ্যমেও দীর্ঘ পোস্টে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি সবচেয়ে বড় করে তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের প্রশ্নটি — তাঁর ভাষায়, নিজস্ব রাজনৈতিক লাইন স্পষ্ট না থাকায় এনসিপি জামায়াতের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে।

সামান্তা শারমিন এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের অন্যতম। দল গঠনের শুরুতে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক; গত ২৩ অক্টোবর দলের পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। তার দুই সপ্তাহের মাথায় এল এই পদত্যাগ। প্রথম আলোকে তিনি জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে নাহিদ ইসলামকে পদত্যাগপত্রটি পাঠান তিনি।

পদত্যাগের পেছনে তিনি চারটি কারণ দেখিয়েছেন। প্রথমত, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট — তাঁর মতে জামায়াত নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, আসন্ন নির্বাচন ও দলের নির্বাচনী কৌশল। তৃতীয়ত, গণঅভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে দলের অবস্থান। চতুর্থত, কাউন্সিল ছাড়া কমিটি পুনর্গঠনসহ অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ঘাটতি। তাঁর দাবি, এসব বিষয়ে বারবার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও দল তার গতিপথ বদলায়নি।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি পান সামান্তা শারমিন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সাবেক এই শিক্ষার্থী পরে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বে জায়গা করে নেন।

এর আগে স্থানীয় নির্বাচন ইস্যুতে জামায়াত-এনসিপি টানাপোড়েনের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে Channel 24-কে বলা হয়েছে, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

শেয়ার করুন

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন, বললেন জামায়াতে হারিয়ে যাচ্ছে দলটি

আপডেট সময় : ০৯:১৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছাড়লেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে তিনি দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন; সামাজিক মাধ্যমেও দীর্ঘ পোস্টে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি সবচেয়ে বড় করে তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের প্রশ্নটি — তাঁর ভাষায়, নিজস্ব রাজনৈতিক লাইন স্পষ্ট না থাকায় এনসিপি জামায়াতের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে।

সামান্তা শারমিন এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের অন্যতম। দল গঠনের শুরুতে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক; গত ২৩ অক্টোবর দলের পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। তার দুই সপ্তাহের মাথায় এল এই পদত্যাগ। প্রথম আলোকে তিনি জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে নাহিদ ইসলামকে পদত্যাগপত্রটি পাঠান তিনি।

পদত্যাগের পেছনে তিনি চারটি কারণ দেখিয়েছেন। প্রথমত, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট — তাঁর মতে জামায়াত নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, আসন্ন নির্বাচন ও দলের নির্বাচনী কৌশল। তৃতীয়ত, গণঅভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে দলের অবস্থান। চতুর্থত, কাউন্সিল ছাড়া কমিটি পুনর্গঠনসহ অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ঘাটতি। তাঁর দাবি, এসব বিষয়ে বারবার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও দল তার গতিপথ বদলায়নি।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি পান সামান্তা শারমিন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সাবেক এই শিক্ষার্থী পরে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বে জায়গা করে নেন।

এর আগে স্থানীয় নির্বাচন ইস্যুতে জামায়াত-এনসিপি টানাপোড়েনের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে Channel 24-কে বলা হয়েছে, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।