Dhaka ০১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ নভেম্বর বসছে সংসদের চতুর্থ অধিবেশন, গণভোটের রায় ও সংস্কার ইস্যুতে মুখোমুখি সরকার-বিরোধী জোট

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 1

জাতীয় সংসদ ভবন (ফাইল ছবি)

আগামী রোববার (৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। তবে এবারের অধিবেশন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে কার্যতালিকার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে একটি প্রশ্ন — জুলাই জাতীয় সনদ আর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবে কীভাবে। এই ইস্যুতেই মুখোমুখি অবস্থানে সরকার ও বিরোধী জোট, ফলে সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু থেকেই উত্তপ্ত হওয়ার আভাস মিলছে।

বিরোধটা আসলে কোথায়? জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার ৪৮টি সরাসরি সংবিধান-সম্পর্কিত। গণভোটে সেসব প্রস্তাবের পক্ষে বড় ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে — ১১ দলীয় ঐক্যের লিখিত হিসাবে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ; এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্যে তা প্রায় ৭০ শতাংশ। প্রশ্ন হলো, এই রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়াটি কে চালাবে — সংসদ নিজে, না আলাদা কোনো সংস্কার পরিষদ গঠন করে। এই প্রক্রিয়াগত প্রশ্নেই আটকে আছে পরের সব বিতর্ক।

সরকারের অবস্থান কী? সরকার বলছে, গত ১৩ জুলাই গঠিত সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটি দিয়েই এগোনো হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গঠিত ১৭ সদস্যের এই কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য রাখা পাঁচটি আসন এখনো খালি থাকায় সদস্য আছেন ১২ জন। সরকারের যুক্তি, সংবিধানে পৃথক ‘সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো বিধান নেই, তাই বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে।

বিরোধী জোট কী করছে? জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ইতিমধ্যে ১৫ সদস্যের ‘জাতীয় সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। এতে রয়েছেন ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, নাজিবুর রহমান মোমেন, এনসিপির আখতার হোসেন ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম প্রমুখ। বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলো সরকারি কমিটির ৩ নভেম্বরের মতবিনিময় সভা বর্জন করেছে; জোটের বিবেচনায় সংসদ বর্জন থেকে রাজপথের কর্মসূচি পর্যন্ত সব বিকল্পই রয়েছে।

বিরোধী পক্ষের অভিযোগও পুরোনো নয়। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গত ১৮ অক্টোবরের এক সভায় বলেছিলেন, “এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।” সেই অভিযোগের পর দুই পক্ষের দূরত্ব কমেনি; অধিবেশন শুরুর আগমুহূর্তে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

আর অধিবেশন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কড়া করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ৮ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে। সব মিলিয়ে, অধিবেশনের প্রথম দিনগুলোতেই সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সংসদের ভেতরে তুমুল বিতর্কের সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।

শেয়ার করুন

৯ নভেম্বর বসছে সংসদের চতুর্থ অধিবেশন, গণভোটের রায় ও সংস্কার ইস্যুতে মুখোমুখি সরকার-বিরোধী জোট

আপডেট সময় : ০৯:১৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

আগামী রোববার (৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। তবে এবারের অধিবেশন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে কার্যতালিকার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে একটি প্রশ্ন — জুলাই জাতীয় সনদ আর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবে কীভাবে। এই ইস্যুতেই মুখোমুখি অবস্থানে সরকার ও বিরোধী জোট, ফলে সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু থেকেই উত্তপ্ত হওয়ার আভাস মিলছে।

বিরোধটা আসলে কোথায়? জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার ৪৮টি সরাসরি সংবিধান-সম্পর্কিত। গণভোটে সেসব প্রস্তাবের পক্ষে বড় ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে — ১১ দলীয় ঐক্যের লিখিত হিসাবে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ; এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্যে তা প্রায় ৭০ শতাংশ। প্রশ্ন হলো, এই রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়াটি কে চালাবে — সংসদ নিজে, না আলাদা কোনো সংস্কার পরিষদ গঠন করে। এই প্রক্রিয়াগত প্রশ্নেই আটকে আছে পরের সব বিতর্ক।

সরকারের অবস্থান কী? সরকার বলছে, গত ১৩ জুলাই গঠিত সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটি দিয়েই এগোনো হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গঠিত ১৭ সদস্যের এই কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য রাখা পাঁচটি আসন এখনো খালি থাকায় সদস্য আছেন ১২ জন। সরকারের যুক্তি, সংবিধানে পৃথক ‘সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো বিধান নেই, তাই বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে।

বিরোধী জোট কী করছে? জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ইতিমধ্যে ১৫ সদস্যের ‘জাতীয় সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। এতে রয়েছেন ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, নাজিবুর রহমান মোমেন, এনসিপির আখতার হোসেন ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম প্রমুখ। বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলো সরকারি কমিটির ৩ নভেম্বরের মতবিনিময় সভা বর্জন করেছে; জোটের বিবেচনায় সংসদ বর্জন থেকে রাজপথের কর্মসূচি পর্যন্ত সব বিকল্পই রয়েছে।

বিরোধী পক্ষের অভিযোগও পুরোনো নয়। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গত ১৮ অক্টোবরের এক সভায় বলেছিলেন, “এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।” সেই অভিযোগের পর দুই পক্ষের দূরত্ব কমেনি; অধিবেশন শুরুর আগমুহূর্তে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

আর অধিবেশন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কড়া করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ৮ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে। সব মিলিয়ে, অধিবেশনের প্রথম দিনগুলোতেই সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সংসদের ভেতরে তুমুল বিতর্কের সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।