টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনাসদস্য তিতাস শেখ নিহত, উদ্ধার ৫৭
- আপডেট সময় : ০৯:১৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 2
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। অভিযানে পাচারকারীদের হাতে জিম্মি থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত সৈনিক মো. তিতাস শেখ (সৈনিক নম্বর ৪৫১৯৫১৭) সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের অধীন একটি ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে, বাবার নাম আফজাল হোসেন। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী তাঁর বয়স ২৭ বছর।
গোয়েন্দা তথ্য ছিল, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পাচারকারীরা গুলি চালায়, শুরু হয় গোলাগুলি।
সেই গোলাগুলিতেই তিতাস শেখের বুকের বাম পাশে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। আজকের পত্রিকার খবর অনুযায়ী, রাত আটটা ৪৮ মিনিটে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আইএসপিআর রাত সাড়ে নয়টায় প্রথম বিজ্ঞপ্তি দেয় এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।
অভিযানে জিম্মি অবস্থা থেকে ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটকের সংখ্যা নিয়ে আইএসপিআর ও প্রথম আলোর খবরে চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটকের কথা বলা হয়েছে; আজকের পত্রিকার খবরে অস্ত্রসহ তিনজন আটকের কথা বলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার বলেন, “যৌথভাবে পাহাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হওয়া অভিযানটির প্রথম পর্বে ৫৭ জনকে উদ্ধার ও এক সেনাসদস্য আহত হওয়ার খবর এসেছিল। গোয়েন্দা তথ্যে জিম্মির সংখ্যা প্রায় ১২০ বলা হলেও শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা গেছে ৫৭ জনকে; বাকিদের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাচার চক্রের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত গহিন পাহাড়ের এই অভিযান শেষ হলো এক সেনাসদস্যের প্রাণহানি দিয়ে — যা টেকনাফ অঞ্চলে মানবপাচার দমনের চ্যালেঞ্জটা আবারও সামনে এনে দিল।



















