বন্ড সুবিধার অপব্যবহার: দুই পোশাক কারখানার ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন
- আপডেট সময় : ০৮:২০:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 9
বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে দুই পোশাক কারখানার বিরুদ্ধে মোট ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। সোমবার এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পৃথক তদন্তে রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ও লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে এই ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে।
সিআইসির তদন্তে উঠে এসেছে, রিয়াজ নিটওয়্যারের বিরুদ্ধে ফাঁকির পরিমাণ ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা। আর লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে ফাঁকির পরিমাণ ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকা। তদন্তে ফাঁকির ধরন হিসেবে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আনা কাঁচামাল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি, কম মূল্যে রপ্তানি দেখানো এবং মূসক ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইসির দল দুটি প্রতিষ্ঠানের কারখানা ও গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে মজুদ যাচাই করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
রিয়াজ নিটওয়্যারের বিষয়ে সিআইসির তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) আওতায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করেছিল। গত ৫ অক্টোবর সিআইসির দল কারখানাটি পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনে গুদামে পাওয়া গেছে মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৫০ কেজি কাপড়, যা আমদানি করা মোট কাপড়ের মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ, অর্থাৎ ১ শতাংশেরও কম। সিআইসির তদন্ত অনুযায়ী, আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৭৮ শতাংশ, অর্থাৎ ২ হাজার ২৩৭ টন কাপড়ের কোনো হদিস মেলেনি।
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলা এই কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ৩১টি ইউডিতে কোনো রপ্তানিই হয়নি, আর তার মধ্যে ৩০টিতেই পুরো কাপড় সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
একই পরিদর্শনে রিয়াজ নিটওয়্যারের কারখানায় ৬৯ হাজার ৩৮২ কেজি সুতা ও ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৭ পিস তৈরি পোশাক পাওয়া যায় বলে সিআইসির তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে লিশা টেক্সের বিষয়ে সিআইসির তদন্তে উঠে এসেছে, বন্ড সুবিধায় আনা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় প্রতিষ্ঠানটির গুদামে পাওয়া যায়নি। গত ১০ সেপ্টেম্বর সেখানে সরেজমিন অনুসন্ধান চালানো হয়।
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি করে লিশা টেক্স প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে উদ্ঘাটিত মোট ফাঁকির অঙ্কের বড় অংশই এই খাতে ধরা পড়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে সিআইসির এই তদন্তের ফল এমন সময়ে প্রকাশ পেল, যখন চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৮৮ শতাংশ বলে তথ্য এসেছে।



















