সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় জেএসএস-ইউপিডিএফ সংঘর্ষ: ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক
- আপডেট সময় : ০৭:০৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 16
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় সংঘর্ষ ও তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটিয়েছে আঞ্চলিক দুই রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ)। টানা দুই দিন ধরে চলা এই সশস্ত্র সংঘর্ষের ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে পৃথক আরেকটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে বড় ধরনের যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সাজেকের গঙ্গারামের জুরজুড়ি ছড়ার পাশের লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এই থেমে থেমে গুলিবিনিময় হয়।
ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি ও স্থানীয়দের আতঙ্ক
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববারের মতো এর আগের দিন শনিবারও সাজেকের মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও ভাঙ্গামুড়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক এমন সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় পাহাড়ি জনপদে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পরিচয় চাকমা গণমাধ্যমকে জানান, জুরজুড়ি ছড়া ও লাঙ্গলমারা সীমানা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সংগঠনগুলোর বক্তব্য ও অস্বীকৃতি
এদিকে অস্ত্র নিয়ে এই সংঘাতে নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে উভয় সংগঠনই। ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেন, বন্দুকযুদ্ধে ইউপিডিএফের জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না, কারণ তাদের কোনো সশস্ত্র সংগঠন নেই; তারা একটি গণতান্ত্রিক দল। সাজেকে চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগের সহসম্পাদক সজীব চাকমাও দাবি করেন যে তাদের কোনো সশস্ত্র গ্রুপ নেই এবং জেএসএস এই বন্দুকযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত নয়। উল্টো ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতার বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অবরোধ শিথিলের দিনেও সাজেক সড়কে বড় গাড়ি বন্ধ
অন্যদিকে, পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা টানা ১০ দিনের সড়ক অবরোধ রোববার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছিল। সাজেকের সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসবের কথা বিবেচনা করে রোববারের জন্য অবরোধ প্রত্যাহারের এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে সোমবার থেকে আগের মতো ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ চলবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে অবরোধ শিথিলের দিনেও স্বস্তি ফেরেনি যোগাযোগব্যবস্থায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামে অন্য একটি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা আলাদা একটি অবরোধের প্রভাব পড়েছে সাজেকে। ফলে সাজেক সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল করলেও কোনো বড় ধরনের যানবাহন বা পর্যটকবাহী বাস চলাচল করেনি।
প্রসঙ্গত, সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি প্রশাসন মেনে নিলেও একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। এরপর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নতুন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।




















