জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
- আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 13
বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অবশ্যই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পরিচালিত হতে হবে’ — সোমবার বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
তাঁর মতে, জাতীয় নিরাপত্তা এখন কেবল সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রচলিত নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে; অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের সঙ্গেও নিরাপত্তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই প্রেক্ষাপটে সতর্কতা ও দূরদৃষ্টি জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভুল তথ্য, অপতথ্য ও সাইবার হুমকিকেও নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রাষ্ট্রপ্রধান।
ভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদান ও স্বাধীনতার ঘোষণার কথা স্মরণ করেন। ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষা বিস্তারে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারীদের স্মরণ করে জনগণের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের সমাপনী পর্যায়ের এই অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















