Dhaka ০৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু ১,২৫১ ছাড়াল, এক দিনেই নতুন রোগী ১,৩৯১

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১০:২১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 27

হামে আক্রান্ত শিশুর হাতের তালুতে র‍্যাশ। ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব থামার কোনো লক্ষণ নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ১ হাজার ২৫১ শিশু। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে ১ হাজার ৩৯১ শিশুর শরীরে হাম কিংবা হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে, আর মারা গেছে আরও দুই শিশু। প্রাদুর্ভাবের প্রায় পুরো চাপটাই পড়ছে শিশুদের ওপর—তাই অভিভাবকদের সতর্কতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির হিসাব বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেট বিভাগের, অন্যজন খুলনা বিভাগের। এই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর নেই। নতুন ১ হাজার ৩৯১ রোগীর মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৫ জনের; বাকি ১ হাজার ৩১৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৩ জনে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে ২৩ হাজার ৭৭০ শিশুর। আর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ২ লাখ ২ হাজার ৬৩৯ শিশু।

মোট মৃত্যু (১৫ মার্চ–৩০ অক্টোবর): ১,২৫১ শিশু

পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু: ১০৫ জন | হামের উপসর্গে মৃত্যু: ১,১৪৬ জন

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী: ১,৩৯১ জন (নিশ্চিত হাম ৭৫, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা ১,৩১৬)

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ২ শিশু (সিলেট ও খুলনা বিভাগে একজন করে)

মোট সন্দেহজনক রোগী: ২,২৭,৬৭৩ জন

হাসপাতালে মোট ভর্তি: ২,০২,৬৩৯ শিশু

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গের রোগী শনাক্তের এই ধারা চলছে। প্রতিদিনই হাজারের বেশি নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে, আর মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে ধীরে ধীরে। আগের দিনের (২৯ অক্টোবর) হিসাবেই মোট মৃত্যু ছিল ১ হাজার ২৪৯ জন—এক দিনে বেড়ে তা ১ হাজার ২৫১-তে পৌঁছেছে। সন্দেহজনক রোগীর মোট সংখ্যা প্রতিদিনই নতুন করে হাজারের বেশি বাড়ছে, যা থেকে বোঝা যায় সংক্রমণের গতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মোট মৃত্যুর বড় অংশই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশু; পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম (১০৫ জন)। অর্থাৎ উপসর্গে মারা যাওয়া প্রতিটি শিশুর মৃত্যুই যে হামজনিত, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না—পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই নিশ্চিত সংক্রমণ নির্ধারণ করা হয়। তবু উপসর্গসহ মৃত্যুর এই বিশাল সংখ্যাই প্রাদুর্ভাবের ভয়াবহতার সবচেয়ে বড় চিত্র।

হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কণা থেকে সুস্থ শিশু সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, যারা টিকা পায়নি এবং অপুষ্টিতে ভুগছে—তাদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বর্তমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃতদের প্রায় সবাই শিশু হওয়ার পেছনে টিকাদানে ফাঁক, প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না পাওয়া এবং দেরিতে হাসপাতালে নেওয়াই মূল কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

হামের শুরুতে সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া দেখা যায়। এর দুই-তিন দিন পর সাধারণত মুখ থেকে শুরু করে সারা গায়ে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।

নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে শিশুকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে: শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুক ধড়ফড় করা; খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব; খাবার ও পানি খেতে অস্বীকৃতি, বারবার বমি বা তীব্র ডায়রিয়া; জ্বর অনেক বেড়ে যাওয়া বা র্যাশের সঙ্গে রক্তক্ষরণের লক্ষণ।

আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা ঘরে রাখা, প্রচুর তরল ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ না দেওয়াই নিরাপদ।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় টিকা। জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সূচি অনুযায়ী শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার দুই ডোজই দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে—কোনো ডোজ বাদ গিয়ে থাকলে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তা পূরণ করে নিন। পাশাপাশি করণীয়: শিশুর টিকার কার্ড পরীক্ষা করে দেখুন কোনো ডোজ বাকি আছে কি না; হামে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শ থেকে শিশুকে দূরে রাখুন; জ্বর-র্যাশ দেখা দিলে শিশুকে স্কুল বা ভিড়ভাট্টায় পাঠাবেন না; হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢাকা ও নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করান; শিশুর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন—অপুষ্ট শিশুর জটিলতার ঝুঁকি বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিন কন্ট্রোলরুম থেকে হাম পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছে, যাতে মৃত্যু, নতুন রোগী ও ভর্তির হিসাব নিয়মিত জানা যাচ্ছে। প্রতিদিনের এই হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতেই সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে প্রতিদিন হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পরও প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিকাদান অভিযান বা অতিরিক্ত কোনো কর্মসূচির ঘোষণা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। কোন কোন জেলায় সংক্রমণের চাপ সবচেয়ে বেশি, টিকাদান কভারেজের ফাঁক কোথায় সবচেয়ে বড়—এসব প্রশ্নের উত্তর পেলে বোঝা যাবে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কতটা লক্ষ্যভিত্তিক হচ্ছে। তত দিন পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারের সতর্কতা আর সময়মতো চিকিৎসাই শিশুমৃত্যু ঠেকানোর প্রধান ভরসা।

শেয়ার করুন

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু ১,২৫১ ছাড়াল, এক দিনেই নতুন রোগী ১,৩৯১

আপডেট সময় : ১০:২১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব থামার কোনো লক্ষণ নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ১ হাজার ২৫১ শিশু। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে ১ হাজার ৩৯১ শিশুর শরীরে হাম কিংবা হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে, আর মারা গেছে আরও দুই শিশু। প্রাদুর্ভাবের প্রায় পুরো চাপটাই পড়ছে শিশুদের ওপর—তাই অভিভাবকদের সতর্কতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির হিসাব বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেট বিভাগের, অন্যজন খুলনা বিভাগের। এই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর নেই। নতুন ১ হাজার ৩৯১ রোগীর মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৫ জনের; বাকি ১ হাজার ৩১৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৩ জনে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে ২৩ হাজার ৭৭০ শিশুর। আর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ২ লাখ ২ হাজার ৬৩৯ শিশু।

মোট মৃত্যু (১৫ মার্চ–৩০ অক্টোবর): ১,২৫১ শিশু

পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু: ১০৫ জন | হামের উপসর্গে মৃত্যু: ১,১৪৬ জন

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী: ১,৩৯১ জন (নিশ্চিত হাম ৭৫, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা ১,৩১৬)

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ২ শিশু (সিলেট ও খুলনা বিভাগে একজন করে)

মোট সন্দেহজনক রোগী: ২,২৭,৬৭৩ জন

হাসপাতালে মোট ভর্তি: ২,০২,৬৩৯ শিশু

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গের রোগী শনাক্তের এই ধারা চলছে। প্রতিদিনই হাজারের বেশি নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে, আর মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে ধীরে ধীরে। আগের দিনের (২৯ অক্টোবর) হিসাবেই মোট মৃত্যু ছিল ১ হাজার ২৪৯ জন—এক দিনে বেড়ে তা ১ হাজার ২৫১-তে পৌঁছেছে। সন্দেহজনক রোগীর মোট সংখ্যা প্রতিদিনই নতুন করে হাজারের বেশি বাড়ছে, যা থেকে বোঝা যায় সংক্রমণের গতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মোট মৃত্যুর বড় অংশই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশু; পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম (১০৫ জন)। অর্থাৎ উপসর্গে মারা যাওয়া প্রতিটি শিশুর মৃত্যুই যে হামজনিত, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না—পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই নিশ্চিত সংক্রমণ নির্ধারণ করা হয়। তবু উপসর্গসহ মৃত্যুর এই বিশাল সংখ্যাই প্রাদুর্ভাবের ভয়াবহতার সবচেয়ে বড় চিত্র।

হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কণা থেকে সুস্থ শিশু সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, যারা টিকা পায়নি এবং অপুষ্টিতে ভুগছে—তাদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বর্তমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃতদের প্রায় সবাই শিশু হওয়ার পেছনে টিকাদানে ফাঁক, প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না পাওয়া এবং দেরিতে হাসপাতালে নেওয়াই মূল কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

হামের শুরুতে সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া দেখা যায়। এর দুই-তিন দিন পর সাধারণত মুখ থেকে শুরু করে সারা গায়ে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।

নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে শিশুকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে: শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুক ধড়ফড় করা; খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব; খাবার ও পানি খেতে অস্বীকৃতি, বারবার বমি বা তীব্র ডায়রিয়া; জ্বর অনেক বেড়ে যাওয়া বা র্যাশের সঙ্গে রক্তক্ষরণের লক্ষণ।

আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা ঘরে রাখা, প্রচুর তরল ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ না দেওয়াই নিরাপদ।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় টিকা। জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সূচি অনুযায়ী শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার দুই ডোজই দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে—কোনো ডোজ বাদ গিয়ে থাকলে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তা পূরণ করে নিন। পাশাপাশি করণীয়: শিশুর টিকার কার্ড পরীক্ষা করে দেখুন কোনো ডোজ বাকি আছে কি না; হামে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শ থেকে শিশুকে দূরে রাখুন; জ্বর-র্যাশ দেখা দিলে শিশুকে স্কুল বা ভিড়ভাট্টায় পাঠাবেন না; হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢাকা ও নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করান; শিশুর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন—অপুষ্ট শিশুর জটিলতার ঝুঁকি বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিন কন্ট্রোলরুম থেকে হাম পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছে, যাতে মৃত্যু, নতুন রোগী ও ভর্তির হিসাব নিয়মিত জানা যাচ্ছে। প্রতিদিনের এই হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতেই সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে প্রতিদিন হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পরও প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিকাদান অভিযান বা অতিরিক্ত কোনো কর্মসূচির ঘোষণা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। কোন কোন জেলায় সংক্রমণের চাপ সবচেয়ে বেশি, টিকাদান কভারেজের ফাঁক কোথায় সবচেয়ে বড়—এসব প্রশ্নের উত্তর পেলে বোঝা যাবে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কতটা লক্ষ্যভিত্তিক হচ্ছে। তত দিন পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারের সতর্কতা আর সময়মতো চিকিৎসাই শিশুমৃত্যু ঠেকানোর প্রধান ভরসা।