Dhaka ১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শর্ত মানলে দুই দিনেই খুলবে হরমুজ প্রণালি, কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন প্রস্তাব ইরানের

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৬:২২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 13

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র তার শর্তগুলো মেনে নিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব — কাতারের মধ্যস্থতায় তৈরি এমন একটি প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের আগের প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়েই আছে; ওয়াশিংটন শর্তগুলো মেনে নিয়েছে, এমন কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।

আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, শর্তের তালিকায় রয়েছে ইসলামাবাদ সমঝোতার পর ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া, অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো, ইরানি তেল কেনার ছাড়পত্র আবার চালু করা এবং কাতারে রাখা অর্থসহ ইরানের সব জব্দ তহবিল ছেড়ে দেওয়া। এর সঙ্গে ওমানের সঙ্গে আলোচিত নৌপথের স্বীকৃতি এবং প্রণালির অন্য পথগুলো বন্ধের দাবিও তুলেছেন তিনি। তাঁর কথা, ‘আমাদের শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি খুলে গেলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরুর পথ তৈরি হবে।’

এই প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে টানা দুই দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা। শুক্রবার তেহরানে কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর শনিবার ইরানি প্রতিনিধিদল পৌঁছায় দোহায়। আরাগচি জানান, কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা শর্তগুলো নিয়ে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছেন, আর পরমাণু ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাব তেহরান পর্যালোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি ইরান এরই মধ্যে পর্যালোচনা করেছে এবং সংলাপের দরজা খোলার মার্কিন চেষ্টাকে তিনি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এই মুহূর্তে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ এই প্রণালি; বন্ধ থাকার উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এরই মধ্যে চড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে গিয়ে ঠেকে, যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ; মার্কিন ক্রুডের দামও ব্যারেলে ১০৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

তবে তেহরানের ভেতর থেকেও এসেছে কঠোর সুর। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অবস্থান হলো, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া প্রণালি খুলবে না। অন্যদিকে দুই দিনের এই প্রস্তাব নিয়ে হোয়াইট হাউস প্রকাশ্যে এখনো কিছু বলেনি। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে ইরানের দেওয়া সাত দিনের একই ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফলে দুই দিনের সময়সীমাটি আপাতত তেহরানের প্রস্তাবের টেবিলেই সীমাবদ্ধ — বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ওয়াশিংটন শর্তগুলোর কতটা মানতে রাজি হয়, তার ওপর। মধ্যস্থতাকারীদের পরামর্শ চলমান থাকায় আগামী কয়েক দিনে ছবিটা আরও পরিষ্কার হতে পারে; ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল জ্বালানি পথটি ঘিরে অনিশ্চয়তাই থেকে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

শর্ত মানলে দুই দিনেই খুলবে হরমুজ প্রণালি, কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন প্রস্তাব ইরানের

আপডেট সময় : ০৬:২২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র তার শর্তগুলো মেনে নিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব — কাতারের মধ্যস্থতায় তৈরি এমন একটি প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের আগের প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়েই আছে; ওয়াশিংটন শর্তগুলো মেনে নিয়েছে, এমন কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।

আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, শর্তের তালিকায় রয়েছে ইসলামাবাদ সমঝোতার পর ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া, অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো, ইরানি তেল কেনার ছাড়পত্র আবার চালু করা এবং কাতারে রাখা অর্থসহ ইরানের সব জব্দ তহবিল ছেড়ে দেওয়া। এর সঙ্গে ওমানের সঙ্গে আলোচিত নৌপথের স্বীকৃতি এবং প্রণালির অন্য পথগুলো বন্ধের দাবিও তুলেছেন তিনি। তাঁর কথা, ‘আমাদের শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি খুলে গেলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরুর পথ তৈরি হবে।’

এই প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে টানা দুই দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা। শুক্রবার তেহরানে কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর শনিবার ইরানি প্রতিনিধিদল পৌঁছায় দোহায়। আরাগচি জানান, কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা শর্তগুলো নিয়ে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছেন, আর পরমাণু ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাব তেহরান পর্যালোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি ইরান এরই মধ্যে পর্যালোচনা করেছে এবং সংলাপের দরজা খোলার মার্কিন চেষ্টাকে তিনি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এই মুহূর্তে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ এই প্রণালি; বন্ধ থাকার উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এরই মধ্যে চড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে গিয়ে ঠেকে, যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ; মার্কিন ক্রুডের দামও ব্যারেলে ১০৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

তবে তেহরানের ভেতর থেকেও এসেছে কঠোর সুর। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অবস্থান হলো, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া প্রণালি খুলবে না। অন্যদিকে দুই দিনের এই প্রস্তাব নিয়ে হোয়াইট হাউস প্রকাশ্যে এখনো কিছু বলেনি। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে ইরানের দেওয়া সাত দিনের একই ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফলে দুই দিনের সময়সীমাটি আপাতত তেহরানের প্রস্তাবের টেবিলেই সীমাবদ্ধ — বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ওয়াশিংটন শর্তগুলোর কতটা মানতে রাজি হয়, তার ওপর। মধ্যস্থতাকারীদের পরামর্শ চলমান থাকায় আগামী কয়েক দিনে ছবিটা আরও পরিষ্কার হতে পারে; ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল জ্বালানি পথটি ঘিরে অনিশ্চয়তাই থেকে যাচ্ছে।