Dhaka ০৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র শঙ্কা, চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 10

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে ‘মুরাসু’ — তামিল ভাষায় যার অর্থ ঢোল; নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত।

বাংলাদেশের দিক থেকে সতর্কতার প্রথম ধাপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় নিম্নচাপটি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এ পরিস্থিতিতে পায়রাসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ১ নম্বর সংকেত মানে সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা নয়, দূরবর্তী সতর্কতা — তবে সমুদ্রে অবস্থানরতদের জন্য এটি সাবধান হওয়ার বার্তা।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে সরাসরি অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে। আঘাত হানার সময় এর কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে, দমকা হাওয়ায় যা ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। আজ ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

এই শঙ্কা এসেছে মাত্র কয়েক দিন আগে অর্ণবের তাণ্ডবের রেশ কাটতে না কাটতেই। গত ২৮ অক্টোবর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপটনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়েছিল অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, যাতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সে তুলনায় মুরাসু অতটা শক্তিশালী বা ধ্বংসাত্মক রূপ নাও নিতে পারে বলে আইএমডির মহাপরিচালক জানিয়েছেন — তবে ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্র উপকূল, রায়ালসীমা ও পুদুচেরির ইয়ানামে অতি ভারি বৃষ্টি এবং ৩ ও ৪ নভেম্বর ওড়িশা উপকূলে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর হলো, পূর্বাভাসের গতিপথ অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টির লক্ষ্য অন্ধ্র উপকূল, বাংলাদেশ উপকূল নয়। তবে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের গতিপথ বদলাতে পারে, তাই উপকূলবাসী ও জেলেদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের দিকে চোখ রাখতে হবে। সংকেত বাড়লে বা গতিপথ বদলালে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র শঙ্কা, চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে ‘মুরাসু’ — তামিল ভাষায় যার অর্থ ঢোল; নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত।

বাংলাদেশের দিক থেকে সতর্কতার প্রথম ধাপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় নিম্নচাপটি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এ পরিস্থিতিতে পায়রাসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ১ নম্বর সংকেত মানে সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা নয়, দূরবর্তী সতর্কতা — তবে সমুদ্রে অবস্থানরতদের জন্য এটি সাবধান হওয়ার বার্তা।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে সরাসরি অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে। আঘাত হানার সময় এর কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে, দমকা হাওয়ায় যা ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। আজ ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

এই শঙ্কা এসেছে মাত্র কয়েক দিন আগে অর্ণবের তাণ্ডবের রেশ কাটতে না কাটতেই। গত ২৮ অক্টোবর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপটনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়েছিল অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, যাতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সে তুলনায় মুরাসু অতটা শক্তিশালী বা ধ্বংসাত্মক রূপ নাও নিতে পারে বলে আইএমডির মহাপরিচালক জানিয়েছেন — তবে ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্র উপকূল, রায়ালসীমা ও পুদুচেরির ইয়ানামে অতি ভারি বৃষ্টি এবং ৩ ও ৪ নভেম্বর ওড়িশা উপকূলে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর হলো, পূর্বাভাসের গতিপথ অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টির লক্ষ্য অন্ধ্র উপকূল, বাংলাদেশ উপকূল নয়। তবে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের গতিপথ বদলাতে পারে, তাই উপকূলবাসী ও জেলেদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের দিকে চোখ রাখতে হবে। সংকেত বাড়লে বা গতিপথ বদলালে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।