Dhaka ০৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ: শিক্ষক গ্রেপ্তার, ক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 46

ছবি-সংগৃহীত

পাবনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ করার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশে এসেছে, যেখানে এক মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীকে চেতনানাশক খাইয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার নির্যাতন চালানো হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার মূল অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে। ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি অপরাধ ঢাকতে জোরপূর্বক জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

ধর্ষণ, জন্মনিয়ন্ত্রক সেবন ও হুমকির চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন কৌশলে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে আসতেন এবং সেই সুযোগে নিয়মিত ধর্ষণ করতেন। শুধু তাই নয়, অনৈতিক সম্পর্কের কারণে সম্ভাব্য শারীরিক বা জৈবিক প্রতিক্রিয়া এড়াতে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রক বড়িও সেবন করানো হতো।

নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী আরও অভিযোগ করেছে, শিক্ষক আবু ইউসুফ কেবল সে একা নয়, বরং মাদ্রাসার আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গেও এমন ঘৃণ্য আচরণ করেছেন। এসব বিষয়ে কাউকে মুখ খুললে বা পরিবারকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার কঠোর হুমকি দেওয়া হতো। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে কক্ষের বাইরে গেলে লম্পট শিক্ষক তাকে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সে সময় আত্মরক্ষার সুযোগ পেয়ে সে পালিয়ে স্থানীয় লোকজনকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে।

মাদ্রাসা ঘেরাও, ভাঙচুর ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

ছাত্রীর মাধ্যমে লোমহর্ষক এই নির্যাতনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে শত শত ক্ষুব্ধ জনতা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসায় চড়াও হয় এবং শিক্ষক আবু ইউসুফকে অবরুদ্ধ করে আটকে রাখে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

তবে ক্ষোভের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, পরদিন শুক্রবার সকালে উত্তেজিত জনতা ওই আবাসিক মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

পাবনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ: শিক্ষক গ্রেপ্তার, ক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও আগুন

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

পাবনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ করার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশে এসেছে, যেখানে এক মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীকে চেতনানাশক খাইয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার নির্যাতন চালানো হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার মূল অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে। ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি অপরাধ ঢাকতে জোরপূর্বক জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

ধর্ষণ, জন্মনিয়ন্ত্রক সেবন ও হুমকির চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন কৌশলে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে আসতেন এবং সেই সুযোগে নিয়মিত ধর্ষণ করতেন। শুধু তাই নয়, অনৈতিক সম্পর্কের কারণে সম্ভাব্য শারীরিক বা জৈবিক প্রতিক্রিয়া এড়াতে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রক বড়িও সেবন করানো হতো।

নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী আরও অভিযোগ করেছে, শিক্ষক আবু ইউসুফ কেবল সে একা নয়, বরং মাদ্রাসার আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গেও এমন ঘৃণ্য আচরণ করেছেন। এসব বিষয়ে কাউকে মুখ খুললে বা পরিবারকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার কঠোর হুমকি দেওয়া হতো। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে কক্ষের বাইরে গেলে লম্পট শিক্ষক তাকে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সে সময় আত্মরক্ষার সুযোগ পেয়ে সে পালিয়ে স্থানীয় লোকজনকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে।

মাদ্রাসা ঘেরাও, ভাঙচুর ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

ছাত্রীর মাধ্যমে লোমহর্ষক এই নির্যাতনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে শত শত ক্ষুব্ধ জনতা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসায় চড়াও হয় এবং শিক্ষক আবু ইউসুফকে অবরুদ্ধ করে আটকে রাখে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

তবে ক্ষোভের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, পরদিন শুক্রবার সকালে উত্তেজিত জনতা ওই আবাসিক মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।