Dhaka ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ চালু ১ নভেম্বর থেকে: উচ্ছ্বসিত দ্বীপবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৮:০৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 39

ছবি-সংগৃহীত

আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় দ্বীপের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। পর্যটননির্ভর এই দ্বীপটিতে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় যাতায়াতের সুযোগ থাকায় স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় গতি ফেরার এবং আয়-রোজগার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার জোরালো আশা তৈরি হয়েছে।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন। এই পুরো সময়টিতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করার সুযোগ পাবেন। রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক সরকারি চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

পর্যটকদের যাতায়াত এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী জানান, নভেম্বরের শুরু থেকেই কক্সবাজার ও নির্ধারিত রুট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে তারা একটি সরকারি পরিপত্র হাতে পেয়েছেন। সেই অনুযায়ী প্রশাসনও নিজেদের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে দ্বীপ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ নজরদারি বজায় রাখবে।

দ্বীপবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দ্বীপবাসী অত্যন্ত খুশি। এবার দীর্ঘ পাঁচ মাস পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে, যা এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটাবে। কারণ সেন্টমার্টিনের মানুষের প্রধান জীবিকা পুরোপুরি পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। গত দুই বছর পর্যটন ভ্রমণে নানা কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় এখানকার সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। এবার সরকার কিছুটা শিথিলতা আনায় আমরা দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, আগামী মাস থেকেই দ্বীপবাসীর কাঙ্ক্ষিত কর্মব্যস্ততা শুরু হবে এবং হাতবদল হয়ে অনেকেরই আয়-রোজগার বাড়বে।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে সেন্টমার্টিনের অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ চালু ১ নভেম্বর থেকে: উচ্ছ্বসিত দ্বীপবাসী

আপডেট সময় : ০৮:০৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় দ্বীপের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। পর্যটননির্ভর এই দ্বীপটিতে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় যাতায়াতের সুযোগ থাকায় স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় গতি ফেরার এবং আয়-রোজগার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার জোরালো আশা তৈরি হয়েছে।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন। এই পুরো সময়টিতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করার সুযোগ পাবেন। রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক সরকারি চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

পর্যটকদের যাতায়াত এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী জানান, নভেম্বরের শুরু থেকেই কক্সবাজার ও নির্ধারিত রুট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে তারা একটি সরকারি পরিপত্র হাতে পেয়েছেন। সেই অনুযায়ী প্রশাসনও নিজেদের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে দ্বীপ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ নজরদারি বজায় রাখবে।

দ্বীপবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দ্বীপবাসী অত্যন্ত খুশি। এবার দীর্ঘ পাঁচ মাস পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে, যা এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটাবে। কারণ সেন্টমার্টিনের মানুষের প্রধান জীবিকা পুরোপুরি পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। গত দুই বছর পর্যটন ভ্রমণে নানা কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় এখানকার সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। এবার সরকার কিছুটা শিথিলতা আনায় আমরা দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, আগামী মাস থেকেই দ্বীপবাসীর কাঙ্ক্ষিত কর্মব্যস্ততা শুরু হবে এবং হাতবদল হয়ে অনেকেরই আয়-রোজগার বাড়বে।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে সেন্টমার্টিনের অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।