Dhaka ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিআইবির গবেষণা: রাজনৈতিক দলগুলোতে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠেছে

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 11

টিআইবির সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার এবং রাজনৈতিক সহিংসতা একধরনের স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই পর্যায়ে ৩২টি রাজনৈতিক দলের তথ্য নিয়ে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে আয়-ব্যয়ের হিসাব, নিরীক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অনেক দল বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করে না, আর দলীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার বড় অংশ পরিচালিত হয় অনানুষ্ঠানিক ও ব্যক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ায়।

গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, ১৬টি রাজনৈতিক দল নিয়মিত জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করে না — এর মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি জাতীয় সম্মেলন করেনি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে। আবার ১৮টি দলের গঠনতন্ত্রে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে ন্যূনতম শুদ্ধাচার বা নৈতিকতার কোনো শর্ত উল্লেখ নেই। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দলে প্রবেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়া ঠেকানোর কার্যকর বিধানও অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যয় নির্বাহ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের মতো কারণে রাজনৈতিক দলগুলো অর্থ ও পেশিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি আগ্রহী হয়। অন্যদিকে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনকারী ও পেশিশক্তির অধিকারীরা নিজেদের সুরক্ষা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জনের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। বিগত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ১৮ থেকে ৩২ শতাংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে এক বা একাধিক মামলা ছিল বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামানের ভাষ্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করা রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তাঁর মতে, অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকা এবং জবাবদিহির ঘাটতিই এই পরিস্থিতির কারণ। গণতন্ত্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার এখন অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেয়ার করুন

টিআইবির গবেষণা: রাজনৈতিক দলগুলোতে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠেছে

আপডেট সময় : ০৮:৪২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার এবং রাজনৈতিক সহিংসতা একধরনের স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই পর্যায়ে ৩২টি রাজনৈতিক দলের তথ্য নিয়ে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে আয়-ব্যয়ের হিসাব, নিরীক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অনেক দল বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করে না, আর দলীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার বড় অংশ পরিচালিত হয় অনানুষ্ঠানিক ও ব্যক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ায়।

গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, ১৬টি রাজনৈতিক দল নিয়মিত জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করে না — এর মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি জাতীয় সম্মেলন করেনি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে। আবার ১৮টি দলের গঠনতন্ত্রে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে ন্যূনতম শুদ্ধাচার বা নৈতিকতার কোনো শর্ত উল্লেখ নেই। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দলে প্রবেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়া ঠেকানোর কার্যকর বিধানও অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যয় নির্বাহ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের মতো কারণে রাজনৈতিক দলগুলো অর্থ ও পেশিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি আগ্রহী হয়। অন্যদিকে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনকারী ও পেশিশক্তির অধিকারীরা নিজেদের সুরক্ষা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জনের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। বিগত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ১৮ থেকে ৩২ শতাংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে এক বা একাধিক মামলা ছিল বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামানের ভাষ্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করা রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তাঁর মতে, অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকা এবং জবাবদিহির ঘাটতিই এই পরিস্থিতির কারণ। গণতন্ত্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার এখন অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।