ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৮–৯ ককটেল বিস্ফোরণ, আটক তিনজন
- আপডেট সময় : ০৮:২০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 1
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা থেকে পৌনে সাতটার মধ্যে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), নীলক্ষেত, সিনেট ভবনের গেট এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের মাঝখানের রাস্তায় আট থেকে নয়টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দুই ব্যক্তি। মেট্রোরেল-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালানোর সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও লোকজন তাঁদের আটক করেন। এ সময় তাঁদের মারধর করা হয়। পরে জড়িত সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়। আটক তিনজন হলেন নাটোরের গুরুদাসপুরের মো. রেজাউল করিম (৪২), রাজশাহীর পুঠিয়ার আব্দুস সোহেল রানা (৩৩) এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার নাজমুস সাদ (৩৩)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, “সংঘবদ্ধভাবে আট থেকে নয়টা ককটেল ফোটানো হয়েছে।” তিনি জানান, ঘটনার পর শাহবাগ থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে; কারা, কী উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত দুই রাত ধরেই রাজধানীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর পাঁচটি এলাকায় অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণ ও একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে; শনিবার রাতেও যাত্রাবাড়ী-বনানীতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং মিরপুর-মহাখালীতে বাসে আগুন দেওয়া হয়। পরপর তিন রাতে একই ধরনের ঘটনায় রাজধানীতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে; জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে।
রোববার সন্ধ্যায় ভাটারার ১০০ ফিট এলাকায় জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসেও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। স্কুলের পরিবহন শাখার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চারটি বাস পার্ক করা ছিল; একটিতে গান পাউডার দিয়ে আগুন দেওয়া হয়, বাসটি পুড়ে গেছে। এ ঘটনাতেও কেউ হতাহত হননি। ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও নাশকতার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
ক্যাম্পাসে বিস্ফোরণের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।



















