টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত; উদ্ধার ৫৭
- আপডেট সময় : ১০:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 2
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। অভিযানে পাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নুরালীপাড়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযানটি পরিচালিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
আইএসপিআর জানায়, পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের সঙ্গে অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি গোলাগুলি হয়। গুলিতে আহত সেনাসদস্যকে দ্রুত রামু সেনানিবাসের সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী। আহত সেনাসদস্যের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানান, যৌথ অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হয়েছেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এস সাজেদুর রহমান জানান, পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি ও অভিযান এখনও চলছে; পুরো অভিযান শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে আইএসপিআর। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধরন এবং গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই শতাধিক মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে এ দাবির সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
রোহিঙ্গা শিবির ঘিরে মানবপাচার চক্রের তৎপরতা নতুন নয়। কক্সবাজার উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে এবং সীমান্ত এলাকা দিয়ে মানুষ পাচারের ঘটনা বারবার সামনে এসেছে। পাচার রোধে সরকার নজরদারি জোরদার করেছে — প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাশিয়াসহ ১২টি দেশে কর্মী পাঠাতে এখন মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমোদন বাধ্যতামূলক করেছে বলে বৃহস্পতিবার জানা গেছে।
পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনাও এ দেশে বিরল নয়। সম্প্রতি রাঙামাটির সাজেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেএসএস-ইউপিডিএফের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় জেএসএস-ইউপিডিএফ সংঘর্ষ: ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক
অভিযান এখনও চলমান থাকায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। অভিযান শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



















