কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তেও থামল না শেয়ারবাজারে বড় পতন, ডিএসইএক্স হারাল ৪৯ পয়েন্ট
- আপডেট সময় : ০৪:১২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 5
শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের জন্য চালু বিশেষ তহবিলের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরদিনই শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ২৮৪ দশমিক ৩২ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ কম।
ডিএসইর বাকি দুই সূচকও নিম্নমুখী ছিল এদিন। ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ২০ দশমিক ২৮ পয়েন্ট, আর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৬৮টির; বিপরীতে দর কমেছে ২৬৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির শেয়ারদর। অর্থাৎ লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশেরই দর কমেছে এদিন।
তবে সূচক পড়লেও টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকার চেয়ে ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি। মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৪৫টি লেনদেনের মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে ১৮ কোটি ৭৯ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পতনের দিনে লেনদেন বাড়া অনেক ক্ষেত্রেই আতঙ্কে শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, ক্রেতাদের শক্তিশালী ফিরে আসার নয়।
অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭৪ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ২১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
অথচ ঠিক আগের দিন সোমবারই বাজারের জন্য ইতিবাচক একটি সিদ্ধান্ত এসেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোর গঠিত বিশেষ তহবিল সুবিধার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সুবিধার মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল; নতুন সিদ্ধান্তে তা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ফলে ব্যাংকগুলো আরও এক বছর বিশেষ তহবিলের আওতায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে।
করোনা মহামারির সময় শেয়ারবাজারে তীব্র তারল্যসংকট মোকাবিলা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই বিশেষ তহবিল গঠনের নীতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। এই তহবিলের আওতায় করা বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর প্রচলিত শেয়ারবাজার এক্সপোজার সীমার বাইরে থাকে বলেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পরদিন শেয়ারবাজারে বড় পতন চলতে থাকায় বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও গভীর হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই এমন সিদ্ধান্তের সুফল মিলছে না; তাঁদের কেউ কেউ বর্তমান কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নতুন নেতৃত্বে কমিশন পুনর্গঠনের দাবিও জানিয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সম্প্রতি প্রতি ব্যাংকের জন্য বিশেষ তহবিলের সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা এবং মেয়াদ ২০৩১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের শেয়ারবাজার মূলধনসংকট, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণের চাপে রয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোয় বাজার ঘুরে দাঁড়াবে না; প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সত্যিকারে বাড়ছে কি না এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা আস্থা ফেরাতে কতটা সক্রিয় হয়, সেদিকেই এখন নজর বিনিয়োগকারীদের।


















